অঞ্চল ও বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, যুদ্ধ ও সংকটের কারণে তুরস্ক ও আমেরিকার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। একই সঙ্গে ন্যাটোর এই দুই মিত্র দেশের সম্পর্কের পথে থাকা বাধাগুলো পেছনে ফেলে সম্পর্কে নতুন গতি আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে আয়োজিত ‘বন্ধুত্বের ১০০ বছর’ গালা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এরদোগান বলেন, “আমাদের অঞ্চল ও বিশ্বে আমরা যেসব সংঘাত, যুদ্ধ ও সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোর কারণে তুরস্ক ও আমেরিকার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংলাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে আমরা যে সংলাপ ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করেছি, তার মাধ্যমে অনেক বিষয়ে আমাদের দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক ফল অর্জন করছি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতেও এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। আগামী সময়ে আমাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তুরস্ক ও আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে এরদোগান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর “আন্তরিক ও ব্যতিক্রমী সংলাপ” এবং জুলাই মাসে ট্রাম্পের আঙ্কারা সফরের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পারমাণবিক ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)সহ জ্বালানি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও উচ্চপ্রযুক্তির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে তুরস্ক প্রস্তুত।
প্রতিরক্ষা শিল্পকে তুরস্ক ও আমেরিকার অংশীদারত্বের অন্যতম শক্তিশালী ক্ষেত্র উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, “দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ের পাশাপাশি ন্যাটোর মধ্যেও প্রতিরক্ষা শিল্পের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া জরুরি।”
তিনি বলেন, “দুই মিত্রের মধ্যে যেসব বাধা কখনোই থাকা উচিত ছিল না, আমরা সেগুলো পেছনে ফেলে সম্পর্কে নতুন গতি আনতে চাই।”
এরদোগান আরও বলেন, “যৌথ উৎপাদনের সুযোগসহ বহুমাত্রিকভাবে আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা আরও গভীর করা উভয় দেশের স্বার্থে হবে।”
তুরস্কের কোম্পানিগুলো আমেরিকায় বিনিয়োগ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই তুরস্ক বিশ্বের শীর্ষ ১০ প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় স্থান করে নেবে।
এরদোগান বলেন, “২০ বছর আগে আমরা বছরে মাত্র ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করতাম। বর্তমানে আমাদের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর আগের তুলনায় বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে তুরস্কের অংশ ১২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এরদোগান বলেন, “আমি আশা করি, তুরস্ক ও আমেরিকার মধ্যকার শক্তিশালী সম্পর্ক এবং মিত্রতার বন্ধন আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের দ্বিতীয় শতকে আরও শক্তিশালী হবে।”
চারপাশে সংকট ও সংঘাত থাকা সত্ত্বেও তুরস্ক “স্থিতিশীলতার দ্বীপ” হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে এবং আরও শক্তিশালী করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তুরস্কে আরও বেশি আমেরিকান বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে এরদোগান বলেন, গত ২৪ বছরে দেশটিতে আসা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
২০২৩ সালের ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় তিন বছরের মধ্যে ৪ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন করে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসব পরিসংখ্যান তুরস্কের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করে এরদোগান বিনিয়োগকারীদের দেশটির বিভিন্ন সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “এই শক্তিশালী ভিত্তির ওপর আমরা এখন নতুন বিনিয়োগ উদ্যোগ শুরু করছি।”
এরদোগান বলেন, এপ্রিলে ঘোষিত একটি বিনিয়োগ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য করপোরেট করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করার বিষয়টিও রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা বিনিয়োগকারীদের বলছি, ‘তুরস্ক থেকে আপনার কার্যক্রম পরিচালনা করতে আসুন।’”
আমেরিকা-তুরস্ক বিজনেস কাউন্সিল ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রতি তুরস্কে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এরদোগান।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি











