তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বহিষ্কার দাবি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম বলেছেন, মানুষের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করে রাজনীতিক নেতা ও মন্ত্রীদের কথা বলার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতাসীন রাজনীতিক দলের নেতা ও মন্ত্রীরা প্রায়ই ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। সম্প্রতি একজন প্রতিমন্ত্রীর বালখিল্যতা জাতি দেখেছে। অপরিপক্ব সেই প্রতিমন্ত্রী যেভাবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে মন্তব্য করেছেন তাতে জনরোষ আরও বেড়েছে।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতী রেজাউল করীম বলেন, এরশাদের আমলে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা হয়েছিল। এখনও সেটা বহাল আছে। সেটা বহাল থাকার পরও একজন প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এটা সংবিধান পরিপন্থি।
কুরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে মন্দিরে হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সাধারণ চরিত্র নয়। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষা এ ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। এ ঘটনার সূত্রপাত থেকে পরবর্তী প্রতিটি ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার ছাপ স্পষ্ট। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরনের ব্যর্থতা কল্পনাতীত। আমরা মনে করি, জনপ্রশাসনে অতিমাত্রায় রাজনীতির কারণে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় এক ধরনের অদক্ষতা তৈরি হয়েছে। যার খেসারত এসব ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয়। কুমিল্লার ঘটনার পর বাংলাদেশের একশ্রেণির মিডিয়া, রাজনীতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজ যেভাবে ঘটনাকে শুধু সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে ব্যাখ্যা করেছে তা হতাশাজনক।
মুফতী রেজাউল করীম বলেন, এ ধরনের ঘটনার কখনই সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হয় না। প্রায় সব ক্ষেত্রেই আশ্বাস দেওয়া হয় কিন্তু বিচার হয় না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই অপশক্তিগুলোকে বারবার ধর্ম অবমাননার মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরির কৌশল ব্যবহারে উৎসাহিত করে।
ভারতকে ইঙ্গিত করে চরমোনাই পীর বলেন, কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, সরকারি দলের রাজনীতিক নেতৃত্ব ও সুশীল সমাজ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের সব ধরনের নীতি-নৈতিকতা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এ ধরনের আগ বাড়ানো প্রতিক্রিয়াশীলতায় ঘটনার অন্তরালে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নোংরা কৌশলের আভাস পাওয়া যায়। বাংলাদেশের উচিত তাদের জবাব দেওয়া।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ফলে যে ধর্মের অবমাননা করা হয় সেই ধর্মের অনুসারীরা এক ধরনের অসহায় বোধ করেন। এ থেকেই তারা তৎক্ষণাৎ বিক্ষোভ দেখানো ও ক্ষেত্র-বিশেষে সহিংস বিক্ষোভ প্রদর্শনে উৎসাহিত হন।
ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন করতে হবে এবং সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে কোনো ধরনের ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটলে জনতা আর সহিংস হয়ে উঠবে না। দেশের স্বাভাবিক রাজনীতিক পরিবেশ ফেরাতে বিরোধী দলগুলোর ওপরে দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। আটক রাজনীতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শাসন ব্যবস্থায় জনতার মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে বহুদলীয় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ, মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, খন্দকার গোলাম মাওলা, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।











