সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাকে ‘বোকা’ বলে অপমান করাটা তিনি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করেন। তবে তাকে যদি কেউ ‘মেধাবী একনায়ক শাসক’ বা স্বৈরশাসক বলে সম্বোধন করে, তাতে তার কোনো আপত্তি নেই।
শুক্রবার (২২ মে) নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
বক্তব্যে নিজের মানসিক দক্ষতা নিয়ে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করতে চিকিৎসকের কাছে বিশেষ পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প।
নিউইয়র্কের এই সমাবেশটি মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর হওয়ার কথা ছিল। তবে একপর্যায়ে ট্রাম্প তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং চিকিৎসকের সঙ্গে তার কথোপকথনের প্রসঙ্গে চলে যান।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ যাবৎকালের দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ। আমেরিকার জনগণ নিশ্চয়ই একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইবে।
সমালোচকদের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাকে মেধাবী একনায়ক বলা হলেও তার আপত্তি নেই। কিন্তু বোকা বলাটা তিনি মেনে নিতে পারেন না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি একটি কগনিটিভ বা জ্ঞানীয় দক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেন বলে জানান ট্রাম্প। তার দাবি, এই পরীক্ষা সাধারণত বেশ কঠিন এবং খুব কম সংখ্যক মানুষই এতে সফল হন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার এই কগনিটিভ পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার দাবি করেছেন। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করার আগে প্রত্যেকের এই পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।
নিজের তিন মেয়াদের শাসনকালে তিনি তিনবার এই পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ সফল হয়েছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের মতো ডেমোক্র্যাট নেতাদের বুদ্ধিমত্তা নিয়েও খোঁচা দেন।
তবে ট্রাম্পের এই পরীক্ষা দেওয়ার দাবি নিয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
টাফটস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মনোরোগবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. হেনরি ডেভিড আব্রাহাম জানান, এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনবার এমন পরীক্ষা দেওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, মূলত ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত ‘মনট্রিল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট’ পরীক্ষার কথাই ট্রাম্প বারবার বলছেন।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. জন গার্টনারের মতে, ট্রাম্পের মানসিক দক্ষতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং তার আচরণে মানসিক অসুস্থতার স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের এমন নেতিবাচক মন্তব্যের বিপরীতে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম তীক্ষ্ণ ও দূরদর্শী কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।











