পবিত্র হজ শুধু একটি ধর্মীয় ইবাদত নয়, এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মুসলিম উম্মাহর ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য প্রতীক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা যখন হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে সমবেত হন, তখন তাদের কুরবানির পশুর গোশতও অসহায় মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে ওঠে।
চলতি বছর সেই মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির হজযাত্রীদের কুরবানির গোশত যুদ্ধবিধ্বস্ত ও নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের কাছে পাঠানো হবে।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী দাহনীল আনজার সিমানজুনাতাক জানিয়েছেন, এ বছর পবিত্র হজে ইন্দোনেশীয় হজযাত্রীদের কুরবানির পশুর গোশত ফিলিস্তিনিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হজের সময় কুরবানি করা পশুর গোশত যেন নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে সৌদি সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
কুরবানির গোশত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সৌদি আরবের ‘আদাহি প্রজেক্ট’-এর কাছেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপমন্ত্রী আরও জানান, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তোর নির্দেশনায় এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩২ জন হজযাত্রী তাদের কুরবানির পশুর অর্থ পরিশোধ করেছেন।
ফিলিস্তিনের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম বিশ্বের এমন উদ্যোগ ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
হজের শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা মানবকল্যাণ, ত্যাগ ও বিশ্ব মুসলিমের পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা বহন করে।
ইন্দোনেশিয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, কুরবানির প্রকৃত চেতনা শুধু পশু জবাইয়ে নয়, বরং অভাবগ্রস্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেও নিহিত। ফিলিস্তিনের দুর্দিনে এই সহমর্মিতার বার্তা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করবে।
সূত্র: টেম্পো।











