উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগী আদিত্য নাথের ইউপি সরকারের জোরপূর্বক দখলের শিকার হয়েছে ভারতের বিখ্যাত আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ কোটি রুপি সমমূল্যের জমি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) এর ৩.৮ একরের বেশি জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে ভারতের উত্তর প্রদেশের সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমিটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি রুপি।
ভারতজুড়ে মুসলিমদের সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ভয়াবহ প্রবণতা ও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে গত ২০ আগস্ট এই ঘটনা ঘটে।
নগর কর্তৃপক্ষ এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিটি সরকারি মালিকানাধীন দাবি করে তার চারপাশে বেড়া দিয়ে দখলে নেয় এবং একটি সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দেয়, যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের মালিকানার পক্ষে জমিটির ঐতিহাসিক নথিপত্র রয়েছে।
সরকার দখলকৃত জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইডিং ফিল্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ‘ভামোলা মাফি-নাগলা পাটওয়ারি’ এলাকায় অবস্থিত।
বেড়া দিয়ে দখলের পূর্বে নগর কর্তৃপক্ষ জমিটির রাজস্ব জরিপ করে এবং দাবী করে, জমিটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে সরকারি রাজস্ব রেকর্ডে নথিভুক্ত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন এ পদক্ষেপকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো আইনি নথি রয়েছে, যা জমিটির উপর আমাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে। তিনি জানান, এএমইউ আদালতে এ পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় এসময় ১৯২৫ ও ১৯৪০ সালের জমি অধিগ্রহণের নথি উপস্থাপন করে। এছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তৈরি একটি যৌথ পরিমাপ প্রতিবেদনেও জমিটিকে রাইডিং ফিল্ডের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এএমইউ আরো অভিযোগ করে যে, ১৯৯২ সালে তাদের রাজস্ব রেকর্ড গোপনে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নাভেদ খান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় উপবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (এসডিএম) কাছে বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে এএমইউ শিক্ষক সমিতি জানিয়েছে, তারা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরবে এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে।
এ ঘটনার পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপিশাসিত ভারতে মুসলিম মালিকানাধীন সম্পত্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর প্রতি আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট নথি ও রাজস্ব রেকর্ড পর্যালোচনার পর উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে।
এই বিরোধ ভারতে মুসলিম সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, মুসলিমদের মালিকানা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন দুর্বল করতে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থাকে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।










