দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি সামরিক হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান। ইমারাতে ইসলামিয়া সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ‘বেপরোয়া ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ আফগান জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করবে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য বিরূপ পরিণতি বয়ে আনবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রধান মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানান, পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠী বুধবার রাতে আবারও কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশে স্থল ও বিমান হামলা চালিয়েছে।
তিনি জানান, এসব হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন।
মাওলানা মুজাহিদ বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া এসব নির্বিচার ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং এগুলোকে সব নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, পাশাপাশি প্রকাশ্য আগ্রাসন ও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে। ইমারাতে ইসলামিয়া জনগণকে আশ্বস্ত করছে যে, পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠীর এসব নির্লজ্জ আগ্রাসন ও হামলার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের নির্লজ্জ আগ্রাসন ও নিপীড়নকে বৈধতা দেওয়ার জন্য পাকিস্তানি সামরিক মহল বুধবার একটি গুজব ছড়িয়েছে যে, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো মোকাবিলায় নিজেদের অক্ষমতাকে আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে তারা আবারও আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে।
মাওলানা মুজাহিদ আরও বলেন, এ ধরনের বেপরোয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে আফগান জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করবে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য বিরূপ পরিণতি বয়ে আনবে।
এর আগে সোমবার রাতে পাকিস্তান কুনার ও পাকতিকা প্রদেশের কয়েকটি এলাকাতেও বোমা হামলা চালায়। কর্মকর্তারা জানান, কুনারে এক নারী ও দুই পুরুষ শহীদ হয়েছেন এবং দুই নারী ও দুই পুরুষ আহত হয়েছেন। তারা আরও জানান, হতাহত সবাই বেসামরিক নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দা।
ইমারাতে ইসলামিয়া এর আগে জানিয়েছিল, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত আফগানিস্তানে পাকিস্তানি হামলায় ৭৬১ জন বেসামরিক নাগরিক শহীদ এবং আরও ৬২৬ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র : পাজওয়াক আফগান নিউজ











