ফিলিস্তিনিদের আর কত রক্ত ঝরলে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতারা ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবেন, এমন প্রশ্ন করেছেন হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া।
মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি একথা বলেন।
গাজ্জায় ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র দলগুলোকে নেতৃত্ব দিতে থাকা সংগঠনটির প্রধান বলেন, আল্লাহর জন্য কুফফারদের বিরুদ্ধে ক্রোধান্বিত হতে, গাজ্জার নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের রক্ত ঝরানোর পশ্চিমা বৈধতার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে আপনাদের আর কত রক্ত চায়? আর কত লাশের স্তুপ প্রয়োজন আপনাদের? শহীদদের লাশের স্তুপ তো উপকূল থেকে বেশি দূরে নয়!
তিনি আরো বলেন, পশ্চিমারা তাদের ও মুসলিম বিশ্বের মাঝে এমন প্রাচীর তুলে দিয়েছে যা কখনো ভাঙ্গার নয়। গাজ্জায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের জাতি নিধনযজ্ঞ বা গণহত্যাকে আরো শাণিত করে তারা মানবতার তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর থেকে গাজ্জায় চলমান ইহুদিবাদী ইসরাইলের গণহত্যায় জাতিসংঘ ও গাজ্জা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত যেসব ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে তন্মধ্যে ৬২ শতাংশই নারী ও শিশু।
গাজ্জা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫০৮৭ জন ফিলিস্তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিমান হামলায় শাহাদাত বরণ করেছেন। তন্মধ্যে প্রায় ২১০০ জনই হলো শিশু আর ১১১৯ জন হলো নারী! এছাড়া আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ২৭৩ জনেরও বেশি সংখ্যক বেসামরিক ফিলিস্তিনি। আহতদের মধ্যেও নারী-শিশুর সংখ্যা কম নয়।
এছাড়া প্রতিনিয়ত বিমানযোগে ইসরাইলী বিমান হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি এখনো বিধ্বস্ত ভবনের নীচে আটকা পড়ে রয়েছে। ধ্বংসযজ্ঞের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ও পর্যাপ্ত উদ্ধার সামগ্রী না থাকায় সকলকে উদ্ধার করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে সংবাদমাধ্যমকে জানায় ফিলিস্তিন রেডক্রিসেন্ট ও গাজ্জা কর্তৃপক্ষ। রেডক্রিসেন্টের প্যারামেডিকদেরও বর্বর অবৈধ রাষ্ট্রটি নিজেদের নিশানায় পরিণত করছে বলে জানানো হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ জন প্যারামেডিক ইসরাইলের হামলায় নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। আহতদের উদ্ধারের সময় তাদেরকে নিজেদের হামলার শিকার বানায় ইসরাইলী বোমারু বিমান। রোগী সহ বেশ কয়েকটি এম্বুল্যান্সও ধ্বংস করে জঘন্য ইহুদিবাদী নরপিশাচদের এই দল।
ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্রটির নরপিশাচরা হাজার হাজার নারী-শিশু ও বেসামরিক লোকজন নির্মমভাবে হত্যা করলেও তাদের নির্লজ্জের ন্যায় অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম সহ বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি সহ ইউরোপের দেশগুলো। বেসামরিক লোকজন নিহতের মর্মান্তিক ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করলেও অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকছে তারা।
সূত্র: আল জাজিরা











