আমেরিকা ও ইসরাইল নতুন করে ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলে হামলার পরিকল্পনা করেছে ইরান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবলগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। হামলার পর ক্যাবল মেরামতকাজ বাধাগ্রস্ত করে যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তাদের একজন।
কর্মকর্তারা অবশ্য হামলা কীভাবে বা ঠিক কোথায় চালানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। তবে একজন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে কোনো ‘রেড লাইন’ বা সীমাবদ্ধতা আর অবশিষ্ট থাকবে না। সমুদ্রতলের ক্যাবল থেকে শুরু করে সামরিক ঘাঁটি, এমনকি গোপন ঘাঁটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।
ওই কর্মকর্তা আমেরিকাকে ‘আগুন নিয়ে না খেলার’ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলোর নাগাল পাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা ইরানের রয়েছে এবং সেগুলো সহজেই ধ্বংস করা সম্ভব।
এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর রাজনৈতিক বিভাগের উপপ্রধান ইয়াদোল্লাহ জাভানি জানিয়েছিলেন, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা হলে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ক্যাবল ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক সমুদ্রতলের ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের এক শতাংশেরও কম প্রবাহিত হয়। ফলে সেখানে হামলার বৈশ্বিক প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে একাধিক ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আঞ্চলিক ইন্টারনেট সেবা, আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ ধরনের হুমকির উদ্দেশ্য নতুন করে আমেরিকার সামরিক অভিযান ঠেকানো এবং উপসাগরীয় দেশ ও আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা।
এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো তেলনির্ভরতা কমিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়াতে বিকল্প স্থলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থাও গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতল ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামোয় ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
সূত্র: রয়টার্স











