রবিবার | ২৫ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

প্যারোলের জন্য আবেদনই করেননি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি কারাবন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম তার স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মরদেহ দেখতে প্যারোলের জন্য আবেদন করেও মুক্তি পাননি- এমন একটি খবর কিছু গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স নিশ্চিত করেছে, ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলের জন্য আবেদনই করা হয়নি।

সাদ্দামের স্ত্রীর পরিবারের বরাতে সংগঠনটি বলছে, প্যারোলের আবেদনই করেনি কেউ। সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিকভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে শেষবারের মতো জেল গেটে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখানো হবে।

জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে। পোস্টে সংগঠনটি বলছে, সাদ্দামের মুক্তির জন্য প্যারোলের আবেদন না করা পরিবারেরই সিদ্ধান্ত, প্রসাশনের নয়।

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। তবে পলাতক থাকলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ এর পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রাখেন।

জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স আরও জানায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে আওয়ামী লীগ এর পক্ষে মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন দেশবিরোধী কার্যক্রম চলমান রাখেন সাদ্দাম। এরপর একটি মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার হন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স বলছে, সাদ্দাম দীর্ঘ সময় জেলের বাইরে থাকলেও পরিবারের সাথে ঠিকমতো যোগাযোগ রক্ষা করেনি। তার চেয়ে বেশি মনযোগী ছিল আওয়ামী লীগ নিয়ে। এসব কারণে পারিবারিক সমস্যা বাড়তে থাকে। জেলে যাওয়ার পর সেটা আরও বাড়ে। তার স্ত্রীর পরিবার এসব ঘটনায় আরও বিরক্ত হয়।

এতে আরও বলা হয়, সাদ্দামের স্ত্রী তার সন্তানকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন— এমন প্রাথমিক ধারণা, অন্য কিছু হতে পারে। সাদ্দামের স্ত্রীর পরিবারের এসব বৈরীতার কারণে কেউ প্যারোলের আবেদন করেনি।

এ ছাড়া সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ভাই শুভ হাওলাদারকে উদ্ধৃত করে সংগঠনটি বলছে, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে পরিবার মৌখিকভাবে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিল। জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, যেহেতু তিনি যশোর কারাগারে বন্দি, বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসন দেখবে।

শুভ হাওলাদারের বরাত দিয়ে জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্স আরও জানায়, সময় স্বল্পতার কারণে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে শেষবারের মতো জেল গেটে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখানো হবে। তাই পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেনি।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ