সেনাবাহিনীতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক ভয়াবহ গণহত্যা ও দখলের শিকার ফিলিস্তিনের প্রতিবেশী রাষ্ট্র জর্ডান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ আজ সেনাবাহিনীর কাঠামোগত পরিবর্তন সাধনের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল ও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যা আগামী ৩ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।
কারণ স্বরূপ বলা হয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল হুমকি ও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যই সেনাবাহিনীতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজকীয় হাশেমী কোর্টের বিবৃতি অনুসারে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ইউসুফ হুনাইতিকে চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
চিঠিতে বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ বলেন, “ আগামী ৩ বছরের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামোগত রূপান্তর সাধনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল ও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন করার জন্য আমরা আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছি, যার লক্ষ্য হবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলা করা, পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও কার্যক্রমের পরিসর বিস্তারের ফলে সৃষ্ট দ্রুত পরিবর্তন ও নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া।”
চিঠিতে, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো আধুনিকায়নের উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া জর্ডানের সামরিক মতবাদে উন্নত প্রযুক্তিকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাইবার প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যা প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।
ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি স্তরের ইউনিটে ব্যবহারেরও নির্দেশ দেন তিনি এবং বলেন, মানববিহীন (আন-ম্যানড) সিস্টেম প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সশস্ত্র বাহিনীর সব স্তরে প্রয়োগ করতে হবে।
সামরিক উৎপাদনের বিষয়ে নির্দেশ দেন যে, ‘জর্ডান ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যুরোর’ ভূমিকা পুনর্গঠন করে একে গবেষণা, উন্নয়ন ও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যা সর্বাধুনিক বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং জাতীয় প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে।
সংবাদমাধ্যনের তথ্যমতে, বাদশাহর এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো, জর্ডানের সেনাবাহিনীকে অপ্রচলিত যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা। রাষ্ট্রের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রসমূহ রক্ষা করতে সক্ষম ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের রূপ দেওয়া।
এই নির্দেশনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো অস্থির হয়ে উঠছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। আগ্রাসী হুমকি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
উল্লেখ্য, ‘জর্ডান ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যুরো’ হলো জর্ডানীয় সশস্ত্র বাহিনীর অধীন একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গবেষণা, নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত।











