পিলখানা হত্যাকান্ডের সাথে ভারত সরাসরি জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ড সংঘটিত করা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে। ভারত, আওয়ামী লীগকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা রাখার স্বপ্ন দেখিয়ে পিলখানা হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ঐ হত্যাকান্ড পরিচালিত করেছে ভারতীয় আজ্ঞাবহ বিডিআর জোয়ানেরা। কিন্তু তাদের কোনো বিচার না করে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের আটক করে বিচারের নামে অবিচার করে দন্ড দিয়েছে, চাকুরীচ্যুত করেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে পিলখানায় সংঘটিত নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশের জনগণ একজন চোর, দুর্নীতিবাজ নেতা পেয়েছে। সেজন্যই আমাদেরকে আজও সংগ্রাম করতে হয়। ১৯৪৭ সালে আমরা প্রথম স্বাধীন হয়েছি, তারপর ১৯৭১ সালে। কিন্তু জনগণ পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা পায়নি বলেই ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই তথা ০৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদের হাত থেকে জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।
আর কোনো সংগ্রাম, সংঘাত নয় উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া আহ্বান জানান।
বিএনপিসহ সব দলকে পাঁচ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নো কম্প্রোমাইজ (কোন আপষ নয়), দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, জাতীয় স্বার্থে এক ও অভিন্ন, দেশের উন্নয়নে জন্য দলের চেয়ে দেশ বড় নীতি অবলম্বন- এই পাঁচ বিষয়ে ঐক্যমত হয়ে জাতির সামনে শপথ গ্রহন করতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দিন।
জামায়াতের নায়েবে আমীর বলেন, ভিন্ন মত ও দল থাকবে। কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে এই পাঁচ বিষয়ে ঐক্যমত হতে পারলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ হবে একটি শক্তিশালী জাতি ও রাষ্ট্র।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট এস.এম কামাল উদ্দিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, পল্টন থানা আমীর শাহিন আহমেদ খান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদের সদস্য সৈয়দ সিরাজুল হক, শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমীর শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সহকারী সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন প্রমুখ।










