রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অপরাধ প্রমাণে আইসিসিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে রাজি নয় আমেরিকা।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) পুতিনের অপরাধ সংশ্লিষ্ট তথ্য দিয়ে আইসিসিকে সহযোগিতা করার আহবান জানিয়ে জো বাইডেনকে চিঠি প্রেরণ করেন আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাকারী সিনেটরদের একটি গ্রুপ।
চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসির সদস্য না হয়েও আমেরিকার যে বিশেষ কর্তৃত্ব রয়েছে তা প্রয়োগ না করাই বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।
বলা হয়, আইসিসির গ্রেফতারী পরোয়ানা সাপেক্ষে পুতিনের যে বর্বরোচিত অপরাধ প্রমাণিত, সেই অপরাধীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সরকার এখনো কেনো তাদের বিশেষ কর্তৃত্ব প্রয়োগ করছে না অথচ সহায়তার যে বিশেষ ক্ষমতা আমেরিকা সরকারের রয়েছে তা আইসিসির তদন্ত প্রচেষ্টায় অতিব জরুরী!
তাছাড়া বাইডেন নিজেই কিছুদিন আগে পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছিলেন, ইউক্রেনে রাশিয়া মানবতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত!
জানা যায়, হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আইসিসির সাথে রাশিয়ার বর্বরতা ও নৃশংসতা সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগাভাগি করতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাইডেন সরকার।
পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ও সহায়তা, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে আইসিসির জন্য অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মূলত, আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র না হয়েও ‘সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে সংস্থাটির (আইসিসির) পূর্ণ অধিকার রয়েছে’ আমেরিকার এমন বক্তব্য তাদের বিপাকে ফেলে দিয়েছে।
কারণ একদিকে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ খতিয়ে দেখার ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহবান জানাচ্ছে আবার অপরদিকে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র না হওয়ায় রাশিয়ার মতো অপরাধ থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ও সহযোগীদের রক্ষার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
উল্লেখ্য; আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন স্বার্থ বিবেচনায় ও রোম সংবিধিবদ্ধ হওয়ায় যে কোনো ধরণের স্বীকৃতি, সদস্য পদ গ্রহণ ও সহায়তা প্রদান করা থেকে পিছু হটে আমেরিকা। তবে গত ডিসেম্বরে কংগ্রেসে একটি বিল পাশ হয়, যেখানে আইসিসির উপর বিধিনিষেধ ও সহযোগিতা আইনে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়।
সূত্র: আল জাজিরা











