আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে মাদরাসা শিক্ষার্থী হাফেজ রেজাউল হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেসক্লাব চত্বরে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে হাফেজ রেজাউলের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। ছাত্র সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মুখপাত্র ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, কথিত শান্তি সমাবেশের নামে নিরপরাধ নিরীহ মাদরাসা শিক্ষার্থী হাফেজ রেজাউলকে সরকারি দলের লোকেরা রাজপথে নির্মমভাবে খুন করেছে। এই খুনের সঙ্গে ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত তা এখন জাতির কাছে স্পষ্ট।
শরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী সরকারের পকেট কমিশনে পরিণত হয়েছে। বর্তমান কমিশনের মাধ্যমে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
ছাত্রদল নেতাদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, ক্যাম্পাসে যখন ছাত্রলীগ অস্ত্রের মহড়া দেয়, শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন করে তখন প্রশাসন কাঠের চশমা পড়ে থাকে। কিন্তু বিরোধী দল ও মত দমনে প্রশাসন আওয়ামী লীগের মত আচরণ করে৷
ওলামায়ে কেরামের মুক্তি দাবি করে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মুখপাত্র রিয়াদ বলেন, চোর ডাকাতদের আদালতে তোলা হয় জামাই আদর করে আর উলামায়ে কেরামকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে অপমান করা হয়। এই অপমান বাংলাদেশের ছাত্র জনতা কখনোই সহ্য করবেনা।
সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান সংগঠনটির মুখপাত্র শরিফুল ইসলাম রিয়াদ।
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মোল্লা মুহাম্মাদ খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নামে দেশে অশান্তি তৈরি করছে। এছাড়াও তিনি প্রশাসনকে নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধারে হাফেজ রেজাউলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।
ছাত্র জমিয়ত একাংশের সভাপতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান বলেন, এই দেশ ছাত্রলীগ যুব লীগের নয়, এই দেশ সাধারন মানুষের। অবিলম্বে হাফেজ রেজাউলের হত্যাকারীদের বিচার করা না হলে, সারা দেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস একাংশের সভাপতি মুহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, হাফেজ রেজাউলকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোন সভ্য দেশে হতে পারে না। তিনি আবরার ফাহাদ ও বিশ্বজিৎ হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবি করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের মহাসচিব বিএম আমির জিহাদী বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে সমস্যা, সেই বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই না।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি পরিষদের সদস্য মুহাম্মাদ কামাল উদ্দীন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল, বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ নূর আলম, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক মুহাম্মদ প্রিন্স, ভাসানী ছাত্র পরিষদের আহবায়ক আহাম্মেদ শাকিল, বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ মিলন, বাংলাদেশ কওমী ছাত্র ফোরামের সদস্য সচিব জামিল সিদ্দিকী প্রমুখ।










