দখলদার অবৈধরাষ্ট্র ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগ কর্মকর্তা এলি হাজান প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তিনি ‘ভুয়া খবর বানান’। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমান তথ্যযুদ্ধে সত্য ও তথ্যের গুরুত্ব আর আগের মতো নেই।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে হাজান বলেন, “সত্য এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। তথ্যও এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।” এরপর তিনি বলেন, “তাদের জবাবে আমি ভুয়া খবর বানাই।”
এক্সে ভিডিওটি ১০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজারবার শেয়ার ও মন্তব্য করা হয়েছে।
হাজান আরও বলেন, ইসরাইলের এমন একটি যোগাযোগ কৌশল গ্রহণ করা উচিত, যা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মডেল অনুসরণ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে একটি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে ইসরাইলকে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অনলাইন ‘যুদ্ধ’ চালাতে হবে এবং সেখানে তথ্যগত নির্ভুলতা গৌণ।
হাজান দীর্ঘদিন ধরে লিকুদ পার্টির যোগাযোগ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দলটির পররাষ্ট্রবিষয়ক পরিচালক এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সিঙ্গাপুরে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতও ছিলেন।
ইসরাইলি গণমাধ্যম চলতি বছর জানিয়েছে, নেতানিয়াহু তাকে গভর্নমেন্ট প্রেস অফিসের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। সংস্থাটি ইসরাইলি সরকার ও দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যকার সম্পর্ক দেখভাল এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইসরাইলের ভাবমূর্তি উন্নত করার লক্ষ্যে জনকূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
গাজ্জায় গণহত্যার পর আন্তর্জাতিক সমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসরাইল তার ‘হাসবারা’ বা রাষ্ট্রীয় জনকূটনীতি ও প্রচারণা কার্যক্রমে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। দেশটির জনকূটনীতি বাজেট বেড়ে প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ১৫০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
এই অর্থ ডিজিটাল প্রচারণা, ইনফ্লুয়েন্সার, বিদেশি প্রতিনিধিদল ও বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে ব্যয় করা হচ্ছে। ইসরাইলপন্থী কনটেন্ট প্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রতি পোস্টে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে সার্চ রেজাল্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মগুলো যে তথ্যভিত্তিক পরিবেশ ব্যবহার করে, সেটিকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর










