spot_img

ওলামায়ে কেরাম রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকার কারণে আজ দুর্নীতিবাজরা দেশ শাসন করছে: মুফতী ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হলে ওলামায়ে কেরামকে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। ওলামায়ে কেরাম রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকার কারণে আজ দুর্নীতিবাজরা দেশ শাসন করছে। ফলে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে নগর ও থানা দায়িত্বশীল তরবিয়াতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মুফতী ফয়জুল করিম বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে নেতৃত্ব দেওয়াটাও ওলামায়ে কেরামের দায়িত্ব। ইসলামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হলে, শোষিত-বঞ্চিত, মজলুম গণ-মানুষের পড়্গে ভূমিকা না রাখলে সমাজের নেতৃত্ব কোন দিনও জালেমের হাত থেকে আলেমদের হাতে আসবে না। যেখানে যতটুকু ওলামাদের নেতৃত্ব আছে সেখানে ততটুকু মানুষ শান্তিতে আছে। কাজেই ওলামাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদেরকে তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করতে হবে। লোভ-লালসা এবং তাগুতি শক্তির সংশ্রব পরিহার করে আল্লাহভীরু ওলামাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী। সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মুফতি হেমায়েতুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ফরিদুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত তারবিয়াতে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুফতি মোহাম্মাদুল্লাহ আনসারী, মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মুফতি মূর্তজা কাসেমী, মুফতি মাহমুদ জাকীর, মুফতি আবুল কালাম আজাদ আনোয়ারী, মুফতি ওসমান আশরাফী, মুফতি আব্দুল আজিজ কাসেমী, মুফতি শাব্বির আহমদ, মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ নাহীদ প্রমুখ।

মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, ওলামায়ে কেরামগণই হলেন ইসলামের প্রধান ব্যক্তি। তারাই রাসূল সাঃ থেকে ধারাবাহিক ভাবে উম্মাহকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময় জেল জুলুম নিপিড়ন সহ্য করে উম্মাহকে এগিয়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, উম্মাহকে নেতৃত্ব দেয়ার এই কাজ জটিল ও কঠিন, এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব না হলে হোচট খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ওলামারা দুনিয়াবি সম্পদ ও ক্ষমতাকে সর্বদাই এড়িয়ে চলেন। তারা নিবৃত্তে জাতি গঠনে কাজ করে যান। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, ইসলামবিরোধী কায়েমি স্বার্থবাদি শক্তি বারংবারই ওলামাদের ওপরে খড়গহস্ত হয়। গ্রেফতার, হামলা, মামলার মাধ্যমে দাঈ ও ওলামাদের হয়রানী করে। আতংক তৈরি করে দাওয়াহ-শিক্ষা ও আন্দোলনের পথকে রম্নদ্ধ করার চেষ্টা করে। যার পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় সংস্কৃতি ও মন-মানসিকতা তৈরীতে ললামায়ে কেরাম দাওয়াত, শিড়্গা ও আন্দোলন এর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। ওলামায়ে কেরাম ঘাম ঝড়ানো পরিশ্রমের মাধ্যমে সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নাগরিকদের নৈতিকভাবে প্রশিক্ষিত করেন। সতর্ক ও তাকওয়ার সাথে কাজ করতে হবে এবং আবেগ-এর সাথে বিবেককে কাজে লাগাতে হবে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ