তুরস্কের তৈরি নতুন টাইফুন ব্লক-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে দখলদার অবৈধরাষ্ট্র ইসরাইলে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পুরো ইসরাইল রয়েছে বলে জানিয়েছে তুর্কি গণমাধ্যম।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রোকেটসান ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে। এটি টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্রের আগের সংস্করণগুলোর তুলনায় বড় ও ভারী। এর ওজন প্রায় ৭ দশমিক ২ টন এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ মিটার।
মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি গতিপথ পরিবর্তন করে কৌশলী চলাচল করতে সক্ষম। ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটিকে প্রতিহত করা কঠিন হতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাতের নির্ভুলতা পাঁচ মিটারেরও কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর গতি ম্যাক ৫ দশমিক ৫-এর বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সক্ষমতাকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আমেরিকা বা ইউরোপের অনুমোদনের প্রয়োজন ছাড়াই আঙ্কারা স্বাধীনভাবে কৌশলগত হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করবে।
টাইফুন ব্লক-৪-এর তাত্ত্বিক পাল্লার মধ্যে পুরো ইসরাইল থাকলেও ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা আপাতত এই হুমকিকে বড় করে দেখছেন না। তারা দখলদার রাষ্ট্রটির বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ইসরাইলের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে অ্যারো-২, অ্যারো-৩ এবং ডেভিডস স্লিং রয়েছে। ইরানের তৈরি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো হুমকি মোকাবিলার জন্য এসব ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
ইসরাইলি বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির স্বাক্ষরকারী। একই সঙ্গে টাইফুন ব্লক-৪ পারমাণবিক নয়, বরং প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করে। তাদের মতে, এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাত্মক প্রভাব সীমিত থাকবে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইসরাইল পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রটির পৌঁছানোর সক্ষমতা নিয়ে আঙ্কারার বক্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।
তবে তাদের মতে, ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক ও দখলদার অবৈধরাষ্ট্র ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা এখনো সীমিত।











