ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভাষায় ‘মৌলিক পরিবর্তন’ এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সাফাদি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান আরও সক্রিয় হয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা ‘আরও কঠোর ভাষায়’ কথা বলছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘আল-মামলাকা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সাফাদি।
সাফাদি বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত সব বৈঠকেই স্পষ্ট হয়েছে যে, ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান আরও সক্রিয় হচ্ছে। ইসরাইলি সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা আরও কঠোর ভাষায় কথা বলছে।’
তিনি বলেন, এসব অবস্থান ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করছে এবং এই সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করা ইসরাইলের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে।’
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার সময় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে সাফাদি বলেন, ‘ন্যায়সঙ্গত ও সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ধ্বংস করে ইসরাইল যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে ভাষা ব্যবহার করছে, তাতে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে।’
সাফাদি মনে করেন, এর কারণেই ‘ইসরাইলি প্রচারযন্ত্রের অযৌক্তিকতা ও অর্থহীনতা’ দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এসব প্রচারযন্ত্র তাদের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রকৃত পদক্ষেপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে, যেসব কর্মকাণ্ড শান্তি প্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পুরো বিশ্ব বলছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। অথচ ইসরাইল পুরো বিশ্বের সামনে এই শান্তি প্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনা ধ্বংস করছে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া আসছে।’
তিনি বলেন, ‘দখলদারত্বকে আরও সুসংহত করা অবৈধ ও অমানবিক পদক্ষেপগুলো সংশোধন করার পরিবর্তে ইসরাইল পুরো বিশ্বকে নিজেদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে।’
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সাফাদি বলেন, ‘বাদশাহ যেমন বলেছেন, সত্যকে নিয়ে যত প্রচারণাই চালানো হোক না কেন, তা সত্যকে মুছে দিতে পারবে না। কারণ সত্য স্পষ্ট ও পরিষ্কার।’
সাফাদি আরও বলেন, ‘ইসরাইলই এই অঞ্চলের সংঘাতের কারণ। দখলদারত্বকে সুসংহত করে এমন তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করাই এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ।’
একই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জোটের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন সাফাদি। সেখানে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ’ নেওয়া না হলে ইসরাইলি সরকার দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের যে সম্ভাবনাগুলো এখনো অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোও ধ্বংস করার সুযোগ পাবে।
বৈঠকে তিনি বসতি স্থাপন এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের সুযোগ হারিয়ে ফেলি, তাহলে বিকল্প হবে এক রাষ্ট্রের পরিস্থিতি। আমি এক রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বলছি না।’ তাঁর মতে, এটি হবে ‘জাতিগত বৈষম্যের এক ভয়াবহ পরিস্থিতি, যা কোনোভাবেই শান্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে না।’
দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জোটটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে সৌদি আরব, নরওয়ে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্যোগে গঠিত হয়। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সমন্বয় করা এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এই জোট গঠনের উদ্দেশ্য।











