বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আবারো দেশে আন্দোলন হবে। আমরা সেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আন্দোলনের পরে নির্বাচন হবে। খালেদা জিয়া আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন।
মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পরীমণির ঘটনা আর মন্দিরে কোরআন রাখার ঘটনা একই। সরকার কখন কোন রং ধারণ করে তার তো ঠিক নেই। মন্দিরে কোনো হিন্দু কোরআন রাখবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। আবার কোনো মুসলমান রাখবে সেটাও বিশ্বাস করি না। আসলে যারা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তারাই এ কাজ করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপির সম্প্রীতি মিছিলেও সরকার বাধা দেয়। আজকে আমরা সম্প্রীতির মিছিলও করতে পারি না। সেখান থেকেও গ্রেফতার করা হয়। আজকে আন্দোলন করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। একটা সময় আমরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। তখন রিকশাওয়ালা রিকশা রেখে, দোকানদার দোকান বন্ধ করে মাঠে নেমে আসত। এখন আর সেই অবস্থা নেই। এখন আন্দোলনে নামার আগেই ভয় চাপে, যদি আমি গুলিবিদ্ধ হই কিংবা গ্রেফতার হই, তাহলে আমার পরিবারের কী হবে! অথচ আইয়ুব খানের সময়েও আমরা তার বিরুদ্ধে মিছিল করেছি। তখনো পুলিশের কাছ থেকে আমাদের অনুমতি নেয়া লাগেনি।
জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান প্রথম বিদ্রোহ করেছেন। মানুষ তখন আনন্দিত হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যুদ্ধে নেমেছে। এখন নানা কথা বলা হয়। আমরা তো বেঁচে আছি। আমরা তো এই ইতিহাস জানি। জনগণও জানে কে যুদ্ধ করেছে, আর কে করেনি। বিএনপি রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের দল। মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার সবচেয়ে বেশি ছিল বিএনপিতে। আর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা তো যুদ্ধের সময় ছিলেন ভারতে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে টুকু বলেন, আমাদের শক্ত আন্দোলনে নামতে হবে। যদি আমরা এ রাস্তা থেকে ফিরে আসি, তাহলে আমাদেরকে দাস হয়ে থাকতে হবে। এজন্য আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক চিন্তা করেই আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেবেন। কোনো বিদেশী সরকার আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে, রাজপথ গরম করতে হবে। আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।












