spot_img
spot_img

জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ডের সময় হাসিনার মধ্যে কোনো অনুশোচনা ছিল না: ডা. আবদুল্লাহ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো কোনো সামর্থ্য তার ছিল না বলে দাবি করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি নিজেকে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্টার নিউজকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে ডা. আবদুল্লাহ জানান, জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে তেমন কোনো ভাবান্তর বা অনুশোচনা ছিল না; বরং তিনি মানসিকভাবে বেশ স্বাভাবিক ও দৃঢ় ছিলেন।

উত্তাল জুলাইয়ে যখন হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে ঘরে থাকা শিশু হত্যা কিংবা জানাজার নামাজেও গুলি চালানো হচ্ছিল, তখন শেখ হাসিনার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল- জানতে চাইলে ডা. আবদুল্লাহ বলেন, ‘তিনি মোটামুটি ভালো ও স্বাভাবিক ছিলেন। চিকিৎসকের নীতি অনুযায়ী রোগীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত তথ্য মিডিয়ায় বলা ঠিক নয়, তবে এটুকু বলা যায় তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় ছিলেন।’

বিশ্ব বিবেক যখন ছাত্র-জনতার রক্তে কাঁদছিল, তখন শেখ হাসিনার এত কাছে থেকেও কেন চুপ ছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. আবদুল্লাহ নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘তখন চুপ থাকা ছাড়া আমার কিছু করার সামর্থ্য ছিল না। আমি তো কোনো রাজনৈতিক নেতা নই, কিংবা কোনো এক্সিকিউটিভ পোস্টে বা ক্ষমতায় ছিলাম না। এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার করার কিছু ছিল না। তবে মানুষ হিসেবে মানুষের কষ্ট দেখলে তো কষ্ট লাগবেই।’

আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারপ্রধানের সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ প্রধানসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি উনার মন্ত্রী বা বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনা করতেন। আমি সেখানে কখনও যোগদান করিনি, ইন্টারফেয়ারও করিনি। আমার কাজ ছিল শুধু উনার চিকিৎসা করা এবং আমি নিজের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতাম।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তার ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল ও বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ একে অন্যায় ও অবিচার বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি কাজটি অন্যায় হয়েছে, আমার প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে।’

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ