কানাডা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বিতাড়নের সংখ্যা চলতি বছরে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয়কে দেশটি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, যা গত বছরের মোট সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে কানাডা সীমান্ত পরিষেবা সংস্থা।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৫৭৩ জন মেক্সিকান নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর ফলে মেক্সিকোকে পেছনে ফেলে বিতাড়নের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ভারত। এর আগে টানা পাঁচ বছর এই তালিকায় মেক্সিকো প্রথম ও ভারত দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। সর্বশেষ ২০২০ সালে ১ হাজার ৪২৪ জন ভারতীয়কে বিতাড়নের মাধ্যমে শীর্ষে উঠেছিল দেশটি। পরবর্তীতে ২০২১ সালে ৬০৩ জন, ২০২২ সালে ৭৮৬ জন, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪ জন এবং ২০২৫ সালে মোট ৩ হাজার ৭৭৯ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে আরও ৭ হাজার ৬৬৯ জন ভারতীয় দেশটিতে বিতাড়নের অপেক্ষায় রয়েছেন।
কানাডা থেকে ভারতীয়দের বিতাড়নের এই হার যুক্তরাষ্ট্রকেও বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ২৭৩ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কানাডা থেকে বিতাড়িত ভারতীয়র সংখ্যা আড়াই গুণেরও বেশি।
অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, ভিসা জালিয়াতি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান এবং আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হওয়াই মূলত এই বিতাড়নের প্রধান কারণ। পাশাপাশি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে নিজেদের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছে কানাডা।
সাধারণত তিন ধরনের আদেশের মাধ্যমে এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রথমত, স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নির্দেশ; যার মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে হয়, অন্যথায় এটি চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশে পরিণত হয়। দ্বিতীয়ত, সাময়িক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আদেশ; যার মাধ্যমে এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। তৃতীয়ত, স্থায়ী বহিষ্কার আদেশ; যার আওতায় সরকারের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভবিষ্যতে কানাডায় প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।











