২৫ বছর পর মিশরের মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে ফিরে এলো ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল বিরোধী দ্বিতীয় ইন্তিফাদা আন্দোলন (২০০০-২০০৫) ও ফিলিস্তিনি শিশু দুররাহ।
সম্প্রতি মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকে নাড়িয়ে দেওয়া ফিলিস্তিনি শিশু দুররাহ হত্যাকাণ্ড যা, সরাসরি সংবাদ সম্প্রচারের সময় পুরো বিশ্বের সামনে উঠে আসে, তা ২৫ বছর পর আবার মিশরের স্কুলের ইতিহাস পাঠ্যক্রমে স্থান পেয়েছে। ২০০০ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা নিয়ে মিশরের নতুন ব্যাকালরিয়েট (দশম-দ্বাদশ শ্রেণি) পাঠ্যবইয়ের একটি পাঠে ছবিটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন পাঠ্যক্রমে এর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে “দ্য সেকেন্ড প্যালেস্টিনিয়ান ইন্তিফাদা ২০০০”। সেখানে মুহাম্মদ আল-দুররাহ-র সেই বহুল আলোচিত ছবির নিচে সরাসরি ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে—“মুহাম্মদ আল-দুররাকে গুলি করার মুহূর্ত।” পুরো একটি প্রজন্মের স্মৃতিতে গেঁথে থাকা ছবিটি এখন মিশরের শ্রেণিকক্ষে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ইতিহাসের পাঠের অংশ।
ছবিটি পাঠ্যবইয়ে বৃহত্তর ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে আলাদা কোনো ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের অব্যাহত বর্বরতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ২০০০ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা এবং পরবর্তী সময়ে গাজ্জা উপত্যকার ঘটনাপ্রবাহ পর্যন্ত বিস্তৃত।
পাঠ্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে আল-দুররার ছবিটিকে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার মানবিক দিকের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
মুহাম্মদ আল-দুররাহ-র বাবা জামাল আল-দুররাহ বলেন, তার শহীদ ছেলের ছবি পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের তার নাম জানা বা তার ছবি চিনতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারবে, ইতিহাসের বইয়ে পড়া ঘটনা ও তারিখগুলোর পেছনে এমন শিশু ও বেসামরিক মানুষ ছিলেন, যারা ভয় ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন এবং এর মূল্য দিয়েছেন।
তিনি আশা করেন, তার ছেলের গল্প ফিলিস্তিন ইস্যুর মানবিক দিক বোঝার একটি মাধ্যম হয়ে উঠবে। এতে শিক্ষার্থীদের কাছে অভ্যুত্থান, যুদ্ধ ও আলোচনা শুধু রাজনৈতিক ঘটনা ও তারিখ হিসেবে বিবেচিত হবে না; বরং তারা বুঝতে পারবে, এসব ঘটনা বাস্তব মানুষের জীবনে সংঘটিত হয়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় পরিণতি বহনকারীদের মধ্যে শিশু ও বেসামরিক মানুষও ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গাজ্জার একটি সড়কের পাশে কংক্রিটের একটি ব্লকের আড়ালে মুহাম্মদ আল-দুররাহ ও তার বাবা জামাল আল-দুররাহ-র গুটিসুটি মেরে থাকার দৃশ্য সংবাদকর্মীদের ক্যামেরায় ও সরাসরি সম্প্রচারের সময় ধরা পড়ে। একই সময় ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সেনাদের তাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করতেও দেখা যায়। বাবার বাহুডোরে আশ্রয় নেওয়া ভীতসন্ত্রস্ত ও ক্রন্দনরত দুররাহকে কিছুক্ষণ পর বুলেটের আঘাতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। ধারণকৃত এই দৃশ্য পরবর্তীতে ইসরাইলী বর্বরতা ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ২য় সংগ্রাম বা ২য় ইন্তিফাদার অন্যতম বহুল পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











