ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা আবারও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করলে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে এ হুঁশিয়ারি দেন আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান আলী মোহাম্মাদী।
আলী মোহাম্মাদী বলেন, আবারও যুদ্ধ শুরু হলে আমরা নিঃসন্দেহে তাদের জাহাজ ও ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালাব এবং সেগুলো ধ্বংস করব। এমনকি ভারত মহাসাগরেও তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।
ইরানের ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি জানায়, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী সাত দিনের মধ্যে খুলে দেওয়ার ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর আলী মোহাম্মাদী এ বক্তব্য দেন। একই সময়ে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করে সেটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ নামে উল্লেখ করেন।
আলী মোহাম্মাদী বলেন, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলো আইআরজিসির নৌবাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। হরমুজ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
তিনি বলেন, আমেরিকা যদি দাবি করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে, তাহলে তারা ওই এলাকায় নিজেদের একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে আসুক।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে নিজের মনে করলে সেখানে তাঁর যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য জাহাজ নেই কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন আলী মোহাম্মাদী।
ইরানের স্বার্থ রক্ষায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। সম্ভাব্য যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ মোকাবিলায় নতুন কৌশল, সরঞ্জাম ও অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি গ্রহণ করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আলী মোহাম্মাদী আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান ঘটনাপ্রবাহের ফলে এ অঞ্চলে বিদেশি শক্তিগুলোর সামরিক উপস্থিতি কমে আসবে। এর মধ্য দিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তিমুক্ত পারস্য উপসাগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।
তিনি বলেন, অতীতের সংঘাতগুলো প্রমাণ করেছে, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতায় জড়ানো যেকোনো শক্তিকেই বড় ধরনের মূল্য দিতে হয়েছে।
সূত্র : প্রেসটিভি, আল জাজিরা











