নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সার ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়ম, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১ নম্বর হরনী ইউনিয়নে ‘জায়ান ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী ফজলে রাব্বি শামীমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকদের একাংশ। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সারের ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেও ফজলে রাব্বি শামীম ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্র ব্যবহার এবং অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কৃষকদের দাবি, সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ বিতরণের দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। তাঁদের অভিযোগ, ডিলারশিপ বরাদ্দে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে এর প্রভাব স্থানীয় কৃষকদের সারপ্রাপ্তি ও কৃষি উৎপাদনের ওপর পড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষক মো. নূরুল আমীন অভিযোগ করে বলেন, “সারের ব্যবসায় তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না বলে আমরা জানি। জাল কাগজপত্র ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কৃষকের স্বার্থে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন।”
স্থানীয় কৃষকদের একাংশের দাবি, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সরকারি বিভিন্ন সেবা ও বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ডিলারশিপ বরাদ্দে অনিয়ম হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে সার বিতরণে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি কিংবা সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কৃষকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ডিলারের আবেদন, জমা দেওয়া কাগজপত্র এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর যোগ্যতা পুনরায় যাচাই করা হোক। তদন্তে অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শুধু হরনী ইউনিয়ন নয়, হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ও তমরুদ্দী ইউনিয়নেও সার ডিলারশিপ বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে তমরুদ্দী ইউনিয়নে একজন ডিলারের ছেলে সরকারি কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকায় সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তবে তাঁর নিয়োগপ্রক্রিয়া, দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সার ডিলারশিপ বরাদ্দে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।











