ইনসাফ | নাহিয়ান হাসান
পরপর দু’বছর ইতালিয়ান অস্ত্রসস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের প্রধান ক্রেতার আসন নিজেদের দখলে রেখেছে স্বৈরাচারী ও বিশ্বাসঘাতক আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি সরকারের মিশর।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) শান্তি ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক ইতালিয়ান নেটওয়ার্ক আইএনএফপিডি এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে।
আইএনএফপিডির তথ্যমতে, চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন, ইতালিয়ান জ্যুলিয়ো রেজেনি হত্যা ও মিশরীয় ক্বিবতী প্যাট্রিক জর্জ জাকিরকে অনৈতিকভাবে আটক রাখার দায়ে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা সত্ত্বেও সিসি সরকারের সাথে ইতালির অস্ত্র ব্যবসা এখনো রমরমা!
মিশরের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের চায়তে অর্থকে বড় করে দেখায় ইউরোপীয় দেশগুলো ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।
ইতালির লক্ষ্য রাখা উচিত যে ২০২০ সাল হলো করোনা মহামারীর বছর যা দেশের অর্থনীতিতে খুব বাজে প্রভাব ফেলেছে।আর দেশের সামরিক খাত সেই অর্থনৈতিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারছে বলে মনে হয় না।
কেননা, ইতালির সরকারের নতুন করে সামরিক সরঞ্জাম রফতানির জন্য অনুমোদন দেওয়া অর্থের মোট পরিমাণ ২০২০ সালে ৩৯২৭ মিলিয়ন ইউরো বা ৪৭৬০ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছে যা ২০১৯ সালে অনুমোদিত মোট অর্থের তুলনায় চরম অবনতিই বলা চলে (-২৫%)!
অপরদিকে উত্তর আফ্রিকায় ইতালিয়ান অয়েল জায়ান্ট অ্যানির বিনিয়োগের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ১৩ বিলিয়ন ডলারে। অথচ ২০১৮ সালের ইতালি-মিশর বাণিজ্যে লোকসান হয়েছিলো ২.৭ বিলিয়ন ডলার!
বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক তাদের বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, বিপুল পরিমাণ ইতালিয়ান অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের মাধ্যমে ইতালির নাগরিক রেজেনিকে নৃশংসভাবে হত্যার খেসারত দিচ্ছে মিশর। আর ইতালিও মিশরকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রেখে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ হাসিল করছে।
উল্লেখ্য, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করা আন্তর্জাতিক পরামর্শ সংস্থা অক্সফোর্ড অ্যানালিটিকার প্রাক্তন কর্মচারী জ্যুলিয়ো রেজেনি হলেন ইতালির নাগরিক।
২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি মিশরে তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অপহরণের পূর্বে মিশরের স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে দেশটিতে তিনি নিজের গবেষণা চালাচ্চিলেন।
তাছাড়া, মিশরীয় ক্বিবতী বংশের লোক প্যাট্রিক জর্জ জাকিকে ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অনৈতিকভাবে আটকে রেখেছে মিশরের সরকার।
জাকি ইতালির বোলগনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজে ইরাসমাস মুন্ডাস মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা একজন ব্যক্তিত্ব এবং মিশরে ওই একই বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা ও আইনী সহায়তা দিয়ে আসছিলেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।












