ইনসাফ | মাহবুবুল মান্নান
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জামেয়া দারুল মা’আরিফ প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ-এর ঈদ পুনর্মিলনী-২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার(২৮মে) রাতে চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট কাশবন রেস্টুরেন্ট হলে পরিষদের সভাপতি ড. মুহাম্মদ মোস্তফা কামিল মাদানির সভাপতিত্বে ও পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।
পরিষদের সদস্য মাওলানা আবু বকর ইসরাফিলের কুরআন তিলাওয়াত ও মাওলানা তানভীর ফরিদের ইসলামি নাশিদ পরিবেশনের মাধ্যমে সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিউল্লাহ কুতুবি।
পুনর্মিলনী বাস্তবায়ন কমিটির তরফে বক্তব্য রাখেন প্রধান আহবায়ক মাওলানা শুয়াইব উদ্দীন মাক্কী। ঈদ পুনর্মিলনীর উদ্বোধনের পর এক প্রাণবন্ত স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে জামেয়া দারুল মা’আরিফ ও প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের নানামুখী সময়োপযোগী কর্মনীতির ভূয়সি প্রশংসা করে স্মৃতিচারণা ও পরিষদকে নিয়ে প্রত্যাশামূলক আলোচনা রাখেন পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা ইনামুল হক সিরাজ মাদানি, শাইখ সাইফুল্লাহ মাদানি, মাওলানা শফিউল্লাহ, মাওলানা মুবিনুল হক, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা সাইফুল ইসলাম মাআরিফী, মাওলানা নুরুল আমিন, মাওলানা মিসবাহ উদ্দিন মাদানি, মাওলানা হামেদ ফরিদ, মাওলানা মুসলিম হায়দার, মাওলানা মিনহাজ উদ্দিন, মাওলানা মাহের শামস, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা হাসিবুল হক ও ডাক্তার সাজ্জাদ মারুফ প্রমুখ।
বক্তারা জামেয়া মা’আরিফের প্রতিষ্ঠালগ্নের নিদারুণ দুরবস্থার ও প্রতিকূলতার স্মৃতি রোমন্থন করে প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ আল্লামা মুহাম্মাদ সুলতান যওক নদভী ও তৎকালীন শিক্ষার্থীদের সীমাহীন ত্যাগ ও কুরবানির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তাদের বক্তব্য শুনে উপস্থিত শ্রোতামণ্ডলী ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তারা আরও বলেন, জামেয়া দারুল মা’আরিফ কোনো গতানুগতিক ধারার প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি রেঁনেসা। একটি বিপ্লব ও একটি ইসলামি শিক্ষা সংস্কারের পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে অধ্যয়ন করে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় জ্ঞানে ব্যুৎপত্তি অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানামুখী কর্ম-দক্ষতার গুণ নিয়ে গড়ে ওঠে। তাই মাত্র পঁয়ত্রিশ বছরের ব্যবধানে এ প্রতিষ্ঠানের গ্রাজুয়েটগণ আজ রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সমাসীন রয়েছেন। ফলে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এ প্রতিষ্ঠানের লালিত চিন্তা – দর্শন ছড়িয়ে দেয়া আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি। সেক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস অনুসরণ করে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে তুলতে হবে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। আর প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিগত ১৪৪২-৪৩ হিজরি শিক্ষাবর্ষে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস ক্বওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত জামাতে উলা ও দাওরায়ে হাদিসের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার মেধাতালিকায় স্থান করে নেওয়াতে জামেয়ার ছয়জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। কৃতজ্ঞতা স্মারক দেয়া হয় পরিষদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া কয়েকটি এনজিও প্রতিষ্ঠানকে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আফিফ ফুরকান মাদানির পরিচালনায় একটি মনোজ্ঞ কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করে সভাপতি ড. মুহাম্মদ মোস্তফা কামিল মাদানি বলেন, আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে জামেয়ার এক একজন অ্যাম্বাসেডর। জামেয়ার সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া ও এর অবকাঠামোগত সার্বিক উন্নয়নে আমাদের সম্মিলিত সহযোগিতা একান্ত জরুরি। এজন্য জামেয়া কেন্দ্রিক একটি কল্যাণ ফান্ড আমাদেরকে গঠন করতে হবে। উপস্থিত সদস্যবৃন্দ সভাপতির বক্তব্যে বিনা বাক্যে সম্মতি প্রদান করে।
পরে অতিথিদের নৈশভোজের মাধ্যমে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সমাপ্ত করা হয়।











