ঈদের আনন্দের মধ্যেও সারাদেশে সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনায় থামেনি মৃত্যুমিছিল। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জে ৫ জন, ফরিদপুরে ৪ জন, গাইবান্ধা ও চট্টগ্রামে ৩ জন করে, দিনাজপুর, নরসিংদী, পটুয়াখালী ও বগুড়ায় ২ জন করে এবং মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও নড়াইলে ১ জন করে নিহত হয়েছেন।
গোপালগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সোহাগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম স্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সোহাগ, তার স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ৬ বছরের ছেলে আহমদ আলী নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় আরও দুইজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মোহাম্মদ আল ফয়সাল ও তামিম ইকবাল নামে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে গলাচিপা পৌরশহরের গ্রামীণ ব্যাংকের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ঈদের দিন সকালে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুল্লাহ ও আরিফা নামে ৪ বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই শিশুর মা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গাইবান্ধায় পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ জন। সুন্দরগঞ্জে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মালেকা বেগম নামে এক নারী নিহত হন। এছাড়া পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসচাপায় হাসান আলী প্রধান ও সিদ্দিক আলী নামে আরও দুইজন নিহত হন।
ফরিদপুরে পৃথক দুই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪ জন। ভাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সাইফুল মোল্লা ও আল ইমরান শরীফ নামে দুই চালক নিহত হন। অন্যদিকে ঈদের দিন পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার পথে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজন শেখ ও ইব্রাহিম ফকির নামে দুই বন্ধু নিহত হন।
নরসিংদী রেলস্টেশনে ঈদের নতুন জামা কিনে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সাথী বেগম ও তার ১৮ মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান হাসেন। বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম অতিক্রম করার সময় দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তারা গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে কর্ণফুলী উপজেলার ভেল্লাপাড়া ব্রিজসংলগ্ন তালতল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঈগল পরিবহনের একটি বাস অতিরিক্ত গতিতে উল্টো পথে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা লেগুনার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
বগুড়ার শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কে তিনটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আবু রায়হান ও শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিম হোসেন। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এছাড়া নড়াইলের লোহাগড়ায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে সাব্বির গাজী নামে এক যুবক, টাঙ্গাইলের সখীপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে কানন নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী এবং মাদারীপুরের শিবচরে বাস থেকে ছিটকে পড়ে সাত্তার হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
ঈদের ছুটিতে এক দিনের ব্যবধানে এত প্রাণহানি সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঈদযাত্রায় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।











