আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়ে ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী। এতে আহত হয়েছেন আরও ১৬০ জনের বেশি মানুষ।
রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রতে এসব হামলা চালা পাকিস্তানি বাহিনী।
ইমারাতে ইসলামিয়ার ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন।
আফগান কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছে পাক্তিয়া প্রদেশের চামকানি জেলার মান্দোখাইল গ্রামে। সেখানে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান একটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালায়। প্রাথমিক ওই হামলায় এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ও এক শিশু নিহত হন বলে জানা গেছে। আহত হন পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য।
হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, আহতদের সহায়তা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে সেখানে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে আরও ২৮ জন নিহত হন এবং ১৫৮ জন আহত হন।
পার্শ্ববর্তী পাক্তিকা প্রদেশের গিয়ান জেলায় ওয়ালুস্ত গ্রামের একটি বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
এদিকে কুনার প্রদেশের মানোগাই জেলার বারোলো গ্রামে আরেকটি আবাসিক বাড়ি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইমারাতে ইসলামিয়া জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এসব হামলায় ৩টি বেসামরিক বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যেই এসব হামলা চালায় পাকিস্তান। সীমান্ত এলাকায় উভয় পক্ষই বারবার একে অপরের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে তৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে।
এর আগে পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, দেশটির ভেতরে হামলার জন্য দায়ী সশস্ত্রদের লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ এ ধরনের হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছে, এসব হামলায় বেসামরিক নাগরিকরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং হতাহতের সংখ্যা যাচাই অব্যাহত রেখেছেন। ফলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।
সূত্র: আরিয়ানা নিউজ











