ফটিকছড়ি কাজিহাট মাদরাসার সদরে মুহতামিম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উপদেষ্টা প্রবীন আলেম হযরত মাওলানা শাহ জালাল আহমদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আমীরে হেফাজত, জামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগরের মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
আজ শনিবার (২৯ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, মাওলানা শাহ জালাল আহমদ (রাহ.) দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও শীর্ষ একজন প্রবীণ আলেমেদ্বীন ছিলেন। ইসলামি তালিম তারবিয়াত ও দাওয়াতের ময়দানে তিনি ছিলেন একজন বীর সৈনিক। তার ইন্তেকালে বাংলার ইলমী ও দাওয়াতী আকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে। দেশবাসী হারিয়েছে একজন নিবেদিতপ্রাণ মুখলিছ আলেমে দ্বীনকে৷ মাওলানা শাহ জালাল (রাহ.) এর ইন্তেকালে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
আমিরে হেফাজত বলেন, মাওলানা শাহজালাল (রাহ.) হক ও ন্যায়-নীতির ওপর অটল-অবিচল একজন নিষ্ঠাবান আলেম ছিলেন। ইসলাম বিরোধী যে কোনো কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর জোরালো ভুমিকা ছিল। হকের উপর দৃঢ় মজবুত। তাঁর ইন্তেকালে ইসলামি তালমি তারবিয়াতের অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়।
আমীরে হেফাজত আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, তিনি ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসায় আমার একনিষ্ঠ সাথীদের একজন। তার সাথে আমার গভীর হৃদ্যতা ছিলো। তিনি আমাকে খুব বেশি মুহাব্বত করতেন এবং আমিও তাঁকে মুহাব্বত ও সম্মান করতাম। তিনি এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে দ্বীনের বহুমুখী খেদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন। ইসলাম-মুসলমান, দেশ ও জাতির পক্ষে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিটি সংগ্রামে মাওলানা শাহজালাল (রাহ.) সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। ইলমের ময়দানে তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেমেদ্বীন।
হেফাজত আমীর বলেন, মাওলানা শাহজালাল (রাহ.) দীর্ঘদিন পর্যন্ত ফটিকছড়িস্থ কাজিহাট মাদরাসার সফল মুহতামিম ছিলেন এবং জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সদরে মুহতামিম এর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন কিতাবাদী পাঠদানের গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। হাজার হাজার আলেম ওলামা তাঁর ছাত্র। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ উস্তাদ। দরস-তাদরীস ও বাতিলবিরোধী আন্দোলনের লাইনে মেহনতের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঈমান আকিদা রক্ষায় ওয়াজ-নসিহতের ময়দানেও খেদমত করে গেছেন তিনি।
আমীরে হেফাজত আল্লামা বাবুনগরী মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তা’আলা যেন তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করেন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করেন।











