spot_img
spot_img

ইরান যুদ্ধের কারণে আমেরিকা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে: বারাক ওবামা

ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে দেশটি আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘অসুরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আমেরিকার জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে জর্জিয়ার আটলান্টার শহরতলিতে আয়োজিত ওই নির্বাচনী প্রচারসভায় ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন ওবামা। ইরান সম্পর্কিত সংকট মোকাবিলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরাইলের নেওয়া সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আমাকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়নি, আমি কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছিলাম।”

ওবামা বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং এর ওপর ইরানের একক ভেটো পাওয়ার তৈরি হয়েছে।

চলমান ৪০ দিনের প্রত্যক্ষ আগ্রাসন ও আট মাসের দীর্ঘ থমথমে পরিস্থিতিতে আমেরিকার আর্থিক ও সামরিক অপচয়ের চিত্র তুলে ধরে ওবামা বলেন, পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে মার্কিন করদাতাদের ৪৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের মিত্র ও ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করা হয়েছে। আমেরিকান সেনারা নিহত হয়েছেন, শত শত মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে এসেছে, যা আমেরিকাকে সামরিকভাবে আরও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ওবামা আরও বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হরমুজ প্রণালীর ওপর এখন ইরানের পূর্ণ ভেটো পাওয়ার তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ থাকা ও বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমেরিকার জলদস্যুতা ও সামরিক অবরোধ স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই আন্তর্জাতিক নৌপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না।

২০১৫ সালে বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকার সময় দীর্ঘ ২০ মাসের কূটনৈতিক আলোচনা শেষে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি, জেসিপিওএ সই হয়েছিল। চুক্তিতে চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও আমেরিকাও যুক্ত ছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখতে সম্মত হয়। এর বিনিময়ে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

তবে ২০১৮ সালের ৮ মে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর চরম পরিণতি হিসেবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

সূত্র : প্রেস টিভি, সিএনএন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ