ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকার গাজ্জার বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নববর্ষ উদযাপনে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কাকার বলেছেন, ফিলিস্তিনের গুরুতর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবং আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্য পাকিস্তানের সরকার নববর্ষ উপলক্ষে সব ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে।
এ সময় তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রদর্শন এবং নববর্ষে সংযম ও নম্রতা প্রদর্শনে পাকিস্তানের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কাকার বলেন, ‘‘গাজ্জা ও পশ্চিম তীরে নিরপরাধ শিশুদের গণহত্যা এবং নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানিরা এবং পুরো মুসলিম বিশ্ব অত্যন্ত ব্যথিত।’’
পাকিস্তানের এই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান প্রত্যেকটি বৈশ্বিক ফোরামে ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা বলছে এবং ভবিষ্যতেও ইসরায়েলি রক্তপাত বন্ধ করতে তা অব্যাহত রাখবে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে দুই দফায় ফিলিস্তিনে সহায়তা পাঠিয়েছে। আরও এক দফায় সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান ফিলিস্তিনকে সময়মত সহায়তা এবং গাজ্জার আহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য জর্ডান এবং মিসরের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে, মঙ্গলবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে নববর্ষ উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। শহরটির কর্তৃপক্ষ বলছে, ফিলিস্তিনিদের দুর্দশায় সংহতি জানাতে নববর্ষের সন্ধ্যায় কোনও ধরনের আতশবাজি কিংবা উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শারজাহ পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে নববর্ষ উদযাপনে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শারজাহ পুলিশ বলেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পোস্টে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ‘‘গাজ্জা উপত্যকায় আমাদের ভাইবোনদের প্রতি সংহতি এবং মানবিক সহযোগিতার আন্তরিক প্রকাশ।’’
সূত্র: ডন, খালিজ টাইমস











