কুরআনের হিফজ চর্চাকে উৎসাহিত করা এবং দেশব্যাপী কুরআনকেন্দ্রিক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আহবাবুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উদ্যোগে প্রথম আন্তর্জাতিক ‘হাদিউল কুরআন’ ও চতুর্থ দেশব্যাপী জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘প্রশান্তিময় কুরআন-২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর পল্টনের ডিসিসি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আলেম, প্রতিনিধি, স্পন্সর, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহবাবুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি সুলতান মাহমুদুর রহমান। বক্তব্যে তিনি বিগত বছরের প্রতিযোগিতা সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও বিচারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে এবারের আয়োজন আরও সুশৃঙ্খল ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি রহমাতুল্লাহ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম, বিগত অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জয়েন্ট সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আশীকুল ইসলাম দেশব্যাপী বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। কোষাধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা রহমাতুল্লাহ প্রতিযোগিতার বাজেট, স্পন্সরশিপ ও স্বচ্ছ অর্থ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
প্রতিযোগিতার শিক্ষা কাঠামো ও বিচারব্যবস্থা তুলে ধরেন সহশিক্ষা সম্পাদক মুফতি আশরাফুল ইসলাম। তিনি জানান, ১০, ২০ ও ৩০ পারা, এই তিন গ্রুপে সারাদেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায় থেকে সেরা ১৫ জন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত হবেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় প্রতিযোগিতা সফলভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিগত বছরের সফল প্রতিযোগীরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নতুন প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন। এছাড়া প্রবাসী সদস্যদের পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অঙ্গীকার জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘প্রশান্তিময় কুরআন-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন। ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশেষ অতিথিরা যৌথভাবে এর মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং প্রতিযোগিতার সার্বিক সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, আগামী দিনগুলোতে দেশব্যাপী বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পরে চূড়ান্ত পর্বের মাধ্যমে সেরা হাফেজদের নির্বাচন ও পুরস্কৃত করা হবে।











