ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মুসলিম-অধ্যুষিত একটি কলোনিতে প্রায় এক মাস ধরে পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অথচ একই সড়কের পাশের হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর এলাকার জ্যোতিনগর কলোনিতে এ ঘটনা ঘটেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘মোল্লাপাড়া’ বা ‘মুসলিম কলোনি’ নামেও পরিচিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২৭ জুলাই পানির পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু করেন পুরসভার কর্মীরা। ২৯ জুলাই পর্যন্ত কাজ চলার পর ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ তাদের এলাকায় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে কলোনির সার্বজনীন কলগুলোতে পানি আসছে না।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের এলাকায় পানি বন্ধ থাকলেও একই সড়কের হিন্দু-অধ্যুষিত অংশে স্বাভাবিকভাবে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন তারা।
পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কলোনির বাসিন্দারা। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অনেককে গঙ্গা নদীর পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাহানারা বিবি জানান, ছোট শিশুরাও গোসল ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে নদীর ঘাটে যাচ্ছে। কয়েকজন শিশু পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বাসিন্দাদের দাবি, নদীর অপরিষ্কার পানি ব্যবহারের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা ও চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে।
পানির সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মসজিদেও। পানি না থাকায় মসজিদের অজুর কল বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে মুসল্লিদের দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে অথবা বিকল্প ব্যবস্থায় অজু করতে হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পানির এই সংকটের সঙ্গে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির মুসলিমদের নিয়ে দেওয়া আগের বক্তব্যের সম্পর্ক থাকতে পারে। নির্বাচনের পর এক জনসভায় তিনি দাবি করেছিলেন, মুসলিমদের কাছ থেকে তিনি একটি ভোটও পাননি। এ কারণে আগামী পাঁচ বছর তাদের জন্য কোনো কাজ করবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
তবে কলকাতা পুরসভা ইচ্ছাকৃতভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত ১৯ আগস্ট পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই এলাকার পানির লাইন কেটে দেওয়া হয়নি। দুটি কলে কারিগরি সমস্যা থাকতে পারে এবং সংযোগে কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কলকাতা বন্দরের জমিতে বসবাসের অভিযোগ করেন। তাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি ও অনুপ্রবেশকারী’ বলেও দাবি করেন তিনি। তবে স্থানীয়রা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তাদের অনেক পরিবার কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে।
সংকট মোকাবিলায় সিপিআইএম ও পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে কয়েক দিন পরপর ট্যাংকারে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, এত মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের জন্য সেই পানি পর্যাপ্ত নয়।
সূত্র : মাকতুব মিডিয়া, সিয়াসাত, আজতক বাংলা ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস











