spot_img
spot_img

সিরিয়ার আসাদের কোনো বৈধতা নেই; সম্পর্কের প্রশ্নই আসে না: আমেরিকা

সিরিয়ার স্বৈরশাসক ও সুন্নি মুসলিমদের গণহত্যার খলনায়ক বাশার আল আসাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক বা উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা নেই আমেরিকার।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আমেরিকা এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা করছে না এবং অন্য দেশকেও বাশার আল আসাদের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে না। আমাদের কাছে আসাদ সরকারের কোনো বৈধতা নেই। এই মুহূর্তে সিরিয়া সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো প্রশ্নই আসে না। সিরিয়ার জনগণের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে আসাদ।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক ইমেইল বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বলেন, আসাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক বা সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবে না আমেরিকা। আমরা অন্য কোনো দেশকেও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছি না।

উল্লেখ্য, সিরিয়ার সুন্নি মুসলিমদের গণহত্যার খলনায়ক ও স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের কারণে গত দশ বছর ধরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ লেগে আছে। এ যুদ্ধে বাশারকে পুরোপুরি সামরিক সহায়তা করছে ইরান ও রাশিয়া। ইরান সবসময় চেষ্টা করছে পুরো সিরিয়ায় যেন শিয়া ধর্মাবলম্বী বাশার ও তার বাহিনীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। এই সংখ্যা জাতিসংঘ ঘোষিত সংখ্যার দ্বিগুণ। সিরিয়া যুদ্ধে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়ান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের (এসসিপিআর)’ একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এদিকে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেট বলেন, আমরা তিন লাখ ৫০ হাজার দুই শ’ নয়জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি যারা ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সিরিয়ায় যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

তবে এটিই সম্পূর্ণ গণনা নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একে সিরিয়ার যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট হতাহতের সম্পূর্ণ গণনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত হবে না। এই সংখ্যার হেরফের হতে পারে এবং নিহতের প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে এটি নিশ্চিতভাবে কম।

মিশেল ব্যাশলেট জানান, মোট নিহতের মধ্যে প্রতি ১৩ জনে একজন নারী ও একজন শিশু। ১০ বছরের অন্তত ২৬ হাজার সাত শ’ ২৭ নারী ও ২৭ হাজার এক শ’ ২৬ শিশু নিহত হওয়ার তথ্য নতুন গণনায় পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোক সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের আলেপ্পো প্রদেশে নিহত হয়েছে। দশ বছরের গৃহযুদ্ধে এই প্রদেশে মোট ৫১ হাজার সাত শ’ ৩১ জন নিহতের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে।

এছাড়া দামেস্ক প্রদেশে ৪৭ হাজার চার শ’ ৮৩ জন, হিমস প্রদেশে ৪০ হাজার নয় শ’ ৮৬ জন, ইদলিব প্রদেশে ৩৩ হাজার দুই শ’ ৭১ জন, হামা প্রদেশে ৩১ হাজার নয় শ’ ৯৩ জন ও তারতুস প্রদেশে ৩১ হাজার তিন শ’ ৬৯ জন নিহতের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে।

সুন্নি মুসলিমদের গণহত্যার খলনায়ক বাশার আল আসাদের জিইয়ে রাখা যুদ্ধের কারণে দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসারে এক কোটির বেশি লোক যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়। দেশ ত্যাগ করা এই সকল সিরিয়ান নাগরিক প্রতিবেশী তুরস্ক, জর্দান, লেবানন, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তারমধ্যে ৪০ লাখ সিরীয় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে তুরস্কে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ