বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন ও জ্বালানি আমদানির জন্য প্রায় ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নেওয়ার উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। দলটির নেতারা বলেছেন, ভাসমান সুদের হারে নেওয়া এসব ঋণের সুদ ও পরিশোধ ব্যয় ভবিষ্যতে বেড়ে গিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ৩৩০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলের আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ূম সোবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রয়োজন মেটাতে ঋণ নেওয়ার আগে দেশের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার আয় এবং ভবিষ্যৎ ঋণ পরিশোধের চাপ বিবেচনা করা জরুরি। আজকের প্রয়োজন মেটাতে এমন ঋণ নেওয়া যাবে না, যার বোঝা আগামী দিনে জনগণের ঘাড়ে চাপবে।
নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা বলেন, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির জন্য নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বাড়লে ঋণের খরচও বাড়বে। মেয়াদ শেষে ঋণ পরিশোধ বা নবায়নে সমস্যা হলে একসঙ্গে বড় অঙ্কের ডলার জোগাড়ের চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে।
তারা আরও বলেন, দেশের বৈদেশিক ঋণ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে বাজেটের বড় অংশ ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধে চলে যেতে পারে। তখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও জনকল্যাণমূলক খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হবে। ফলে অপরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল ঋণ গ্রহণ কোনোভাবেই দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনের নামে কঠিন শর্তের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করে স্বল্প খরচে অর্থায়নের সুযোগ খুঁজতে হবে। ঋণের প্রতিটি শর্ত জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে এবং ঋণের অর্থ যেন অপচয়, দুর্নীতি বা অদক্ষ প্রকল্পে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
তারা বলেন, ঋণ নিয়ে সাময়িক সংকট সামাল দেওয়া সহজ। কিন্তু সেই ঋণের বোঝা জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।











