ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস কোন সন্ত্রাসী সংগঠন নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
তিনি বলেন, হামাস যেহেতু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশিকা অনুসরণ করে তাই সংগঠনটিকে কখনোই সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না। পাশাপাশি তিনি গাজ্জা উপত্যকার সাধারণ নির্বাচনে হামাসের অংশগ্রহণ ও বিজয়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট সিলভা বলেন, “এখানে ব্রাজিলের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার। ব্রাজিল শুধুমাত্র সেইসব সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে স্বীকৃতি দেয় যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক ঘোষণা করা হয়েছে। আর নিরাপত্তা পরিষদ হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।”
তিনি আরো বলেন, “গাজ্জা উপত্যকায় যুদ্ধ বন্ধ হোক এটাই চাই আমরা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। সম্ভবত নেতানিয়াহু এটা ভুলে গেছেন যে গাজ্জায় শুধুমাত্র হামাসের যোদ্ধারাই বসবাস করে না, তাদের হামলার সবচেয়ে বড় শিকার নারী ও শিশু রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে, সর্বোপরি শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে ব্রাজিলের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন লুলা দা সিলভা।
লুলা বলেন, “এখন প্রয়োজন সংলাপের শক্তি দিয়ে বুলেটের শক্তিকে পরাজিত করা। আমি শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলে যাব। সংলাপের শক্তি বেশি কার্যকর এবং মানুষের তৈরি বোমাকেও পরাজিত করতে সক্ষম।”
এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে গাজ্জা উপত্যকায় আটকা পড়া ব্রাজিলের নাগরিকদের উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি ও ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের প্রথমার্ধে হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ব্রাজিলের উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী এ দেশটি।
এই সপ্তাহের শুরুতে, ‘ব্রাজিল কেন হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে না’ শিরোনামে একটি বিবৃতি জারি করে দেশটির সরকার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কোন গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নির্দেশিকা অনুসরণ করে ব্রাজিল। কারণ এ পরিষদের কাছে একটি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করার ক্ষমতা ও বৈধতা রয়েছে। আর জাতিসংঘের ২৪ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে দায়েশ, আল কায়েদা ও বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী সংগঠন গুলোর তালিকায় হামাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।”
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











