রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমলিঙ্গের বিয়ের আয়োজনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু দারদা এবং জেনারেল সেক্রেটারি হাফেজ আশরাফুল ইসলাম এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক রীতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করে আসছে। দেশের প্রচলিত আইন ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড যদি প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
তারা আরও বলেন, “যদি এ ঘটনায় প্রচলিত দণ্ডবিধি বা অন্য কোনো প্রযোজ্য আইন লঙ্ঘিত হয়ে থাকে, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা করা রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক—সবার যৌথ দায়িত্ব। কোনো বিতর্কিত বা বিভাজন সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড যেন সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় প্রচারের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। জনমনে বিভ্রান্তি বা উত্তেজনা সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে হবে।”
খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে যদি তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের বিতর্কিত ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও জোর দাবি জানাচ্ছি।”










