জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) মহাসচিব ফেরিদুন সিনিরলিওগ্লুকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী করেছে তুরস্ক। মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থার মধ্যে দেশটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতিসংঘে তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি আহমেত ইলদিজ দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠান।
তুরস্কের জাতিসংঘে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি আহমেত ইলদিজ বলেন, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান সিনিরলিওগ্লুর যোগ্যতা, সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিজ্ঞতা এবং তার প্রতি আস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মনোনয়নপত্রে বলা হয়েছে, সিনিরলিওগ্লুর কূটনৈতিক অঙ্গনে ৪০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালে তাকে আফগানিস্তান বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ওএসসিইর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আনাদোলু জানায়, জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীকে নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিরাপত্তা পরিষদে সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। এর পরই তুরস্ক সিনিরলিওগ্লুকে প্রার্থী করার আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯টি ভোট প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য, আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন আটকে যেতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদ প্রার্থী সুপারিশ করার পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ তাকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।











