Home Blog Page 4

জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ সামনে রেখে জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

বুধবার (২৭ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতি, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের মোট আয়তন প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে প্যান্ডেলের আওতায় রয়েছে ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকা। ১২১টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ অতিথিদের জন্য ২৫০ জন এবং নারীদের জন্য ৮০ জনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও সাড়ে ৩ হাজার নারী মুসল্লির জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের জন্য মোট চারটি ফটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য দুটি এবং নারী মুসল্লিদের জন্য একটি পৃথক ফটক থাকবে। বহির্গমনের জন্য রাখা হয়েছে সাতটি ফটক। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য পাঁচটি এবং নারীদের জন্য একটি পৃথক ফটক নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঈদ জামাতের জন্য মোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ অতিথিদের জন্য পাঁচটি ও নারীদের জন্য একটি কাতার, সাধারণ পুরুষ মুসল্লিদের জন্য ৬৫টি বড় আকারের এবং নারী মুসল্লিদের জন্য ৫০টি ছোট আকারের কাতার থাকবে।

অজুখানায় একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লি অজু করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১১৩ জন এবং নারীদের জন্য ২৭ জনের পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদগাহ ময়দানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা, নিরাপদ খাবার পানি, নামাজের জন্য কার্পেট এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাতারে জায়নামাজ সরবরাহ করা হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ পথ ও নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পানি নিরোধক সামিয়ানার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

মুসল্লিদের আকর্ষণ করতে ঈদগাহে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন তিনটি ফটক। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মুসল্লিদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।