দুই নেত্রীর ভোট; বন্দী খালেদা জিয়া, সিটি কলেজে ভোট দেবেন শেখ হাসিনা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম  মাহিরজান


২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা

নব্বই পরবর্তী অংশগ্রহণমূলক প্রতিটি নির্বাচনেই দেশের প্রধান দুই নেত্রী, অর্থাৎ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কোথায় ভোট দিচ্ছেন, বা কোন কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকেই তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলতে থাকত। কিন্তু এবার দুইজনের একজন, বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় এই উৎসাহে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবার কারাগারে বন্দী অবস্থায় আছেন। তিনি এবার প্রার্থীও হতে পারেননি। তাই ভোট দেয়ার কোন সম্ভাবনা নেই তাঁর।

তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

বরাবরের মত এবারও তিনি ঢাকা সিটি কলেজ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ধানমণ্ডি সুধাসদনের বাসার ঠিকানায় ভোটার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে হিসেবে তার ভোট কেন্দ্র ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্র। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি শেখ হাসিনা ওই কেন্দ্রে ভোট দেন।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নমব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া

ইবাদত-বন্দেগি ও বইপত্র পড়ে সময় কাটছে খালেদা জিয়ার
ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮
ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নিজস্ব প্রতিনিধি


কারাগার থেকেই ভোটের খোঁজখবর রাখছেন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কারাবিধি অনুযায়ী তিনি বিটিভি ও একটি পত্রিকা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নিয়মিত নামাজ পড়ে আর বইপত্র পড়েই সময় কাটে তার। পত্রিকা-টিভি দেখার পাশপাশি ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতিমার সঙ্গে আলাপচারিতায় সময় কাটে বেগম জিয়ার। তবে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ভোট-সংশ্লিষ্ট নানা ‘বার্তা’ দিচ্ছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।

সর্বশেষ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন পরিবারের সদস্যরা বিএনপি প্রধানের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ পান। এরপর পরিবারের সদস্য কিংবা দলের নেতারা কেউ দেখা করতে পারেননি বেগম জিয়ার সঙ্গে। এ নিয়ে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি কারা কর্তৃপক্ষের।

কারা সুত্র জানা যায়, মাঝে মধ্যে বেগম জিয়া গৃহকর্মী ফাতেমার সঙ্গে গল্প করেন। কারারক্ষীদের সহায়তা নিয়ে ফাতেমা তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে বারান্দায় ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ান। পুরনো কারাগারের ভিতরই তার জন্য বিশেষভাবে রান্নার ব্যবস্থা আছে। কারারক্ষীরা তা তদারক করেন। মাছ, মাংস, ডাল, সবজি ও ভাত-রুটি রান্না করে তাকে দেওয়া হয়। বাইরে থেকে কোনো খাবারই সরবরাহ করার সুযোগ নেই। রান্না করা খাবার চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয়। তিন বেলাই এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তবে খাওয়া নিয়ে বেগম জিয়ার কোনো বিশেষ কোনো চাহিদা নেই। হালকা লাউ-সবজি, রুটি, মুরগির মাংস বা অল্প ভাত খান বেগম জিয়া।

জানা যায়, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারটি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। ভোট সামনে রেখে আরও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক কারারক্ষী ছাড়াও বাইরে সব সময় চকবাজার থানা-পুলিশের একটি দল দায়িত্বে থাকে। এ ছাড়া প্রায় সব গোয়েন্দা সংস্থার লোকই পালা করে দায়িত্ব পালন করেন কারাফটকে। কারাগারে দায়িত্বরত এক কারারক্ষী বলেন, খালেদা জিয়া খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। মাঝে মধ্যে কারারক্ষীদের সহযোগিতায় তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ভবনের বারান্দায় ঘোরানো হয়। এ ছাড়া তিনি ইবাদত-বন্দেগিতে সময় পার করেন। কারারক্ষীরা তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান না।

সূত্র : বি প্র