দেশে পানির অপচয় রোধে গৃহস্থালি এবং সকল শিল্প-কলকারখানায় ব্যবহৃত পানি রিসাইক্লিং করে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মুহাম্মাদ তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া অব্যবহারযোগ্য পানি ব্যবহারযোগ্য করার জন্য বড় বড় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কথাও জানান মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু তে ‘বিশ্ব পানি দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের অনেকেই রিসাইক্লিং কাজকে কঠিন বলে উল্লেখ করেন।
তাজুল ইসলাম জানান, ঢাকা শহর যেভাবে গড়ে উঠেছে এতে করে প্রত্যেক বাসায় পাইপ লাইন দেওয়া অথবা রাস্তা খুঁড়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ট্রিটমেন্ট প্লান্টে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের দরকার সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এজন্য প্রত্যেক বাসা-বাড়িতে সেপ্টিক ট্যাংক নিশ্চিত করতে হবে। এরপর সেখান থেকে সংগ্রহ করে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নিয়ে পানি শোধন করে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের জন্য মাস্টার প্ল্যান গ্রহণের জন্য ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে, আমি আশা করি দেশ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই লক্ষ্য অর্জন করবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে অনেকগুলো ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের জন্য যত গভীরে যাওয়া হবে আর্সেনিক ছাড়াও অনেক হেভি মেটাল রয়েছে যেগুলো পানির সাথে উঠে আসবে এবং শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। তাই ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূউপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে।
মো. তাজুল ইসলাম আরো জানান, যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে সেসব অঞ্চলে পানি সরবরাহ করার জন্য ন্যাশনাল গ্রিড লাইন স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সারা দেশে অনেক ইকোনমিক জোন করা হচ্ছে। এসব জোনে প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কলকারখানায় প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন হবে। সে লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছে সরকার। দেশের পানির প্রধানতম উৎসগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেমন মেঘনা থেকে মিরেরসরাই ইকোনমিক জোনে পানি নেওয়ার বিষয়ে এখন স্টাডি চলছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। মানুষ গ্রামেই উন্নত সকল সুযোগ-সুবিধা পাবে। তাই উন্নত জীবন ব্যবস্থার জন্য সবাইকে ঢাকায় আসার প্রয়োজন নেই।










