বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, হক-বাতিলের সংঘাত চিরন্তন বাস্তবতা। বদর থেকে শুরু করে যুগে যুগে ইসলামের অগ্রযাত্রা রুখে দিতে চেয়েছে বাতিল শক্তি, অন্যদিকে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার একটি দল সকল প্রতিকূলতা মাড়িয়ে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ইসলামকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কোন সুযোগ মুসলমানের নেই।
আজ মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর এক মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমানের পরিচালনায় আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিম।
প্রধান অতিথি বলেন, আজ সমাজে কত আহাজারি। অসহায়, নির্যাতিতরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে। এ অবস্থায় দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বদরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বাতিলের শাসন চুরমার করে দিতে হবে। সমাজে যেন কোন জুলুম চলতে না পারে এই লক্ষ্যে আমাদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। জুলুম সহ্য করা যাবে না, করতেও দেওয়া যাবে না। কুরআনের আন্দোলনকে জাগ্রত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সাহসীদের কিতাব আল কুরআন। যারা সাহসী তাদেরকেই কুরআনের বাণী প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ের প্রচেষ্টা চালানো প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক। ছাত্রশিবির জন্মলগ্ন থেকেই কুরআনের আলোকে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। দ্বীনকে বিজয় দান করার দায়িত্ব আল্লাহর। আমাদের কাজ হলো লোক তৈরি, জনমত গঠন, মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছানো ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করা। আল্লাহ তায়ালা তার কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য আমাদের শিখিয়েছেন। আল্লাহ বলছেন, তোমরা ভীত হয়ো না, হতাশ হয়ো না। আমরা হতাশাগ্রস্ত না হয়ে ঘুনে ধরা সমাজব্যবস্থা ভেঙে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করবো। সেদিন খুব বেশি দেরি নয়, যেদিন বাংলার জমিনে ইসলামের পতাকা পতপত করে উড়বে, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, কুরআন হলো আমাদের জন্য হুদাল্লিন্নাস, আমাদের পথ ও পাথেয়। রমজান হচ্ছে কুরআন থেকে গাইডলাইন নিয়ে জীবন পরিচালনার মাস। ইসলাম শুধু তাত্ত্বিক কথা বলে না, চূড়ান্তভাবে নিজেকে সঁপে দিতে বলে। ইবাদতের প্রথম শর্ত হলো নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে উৎসর্গ করা। এ জন্য আমাদেরকে রমজানের আলোকে নিজেকে তৈরি ও বদরের চেতনায় নিজেকে জাগ্রত করতে হবে। আমাদের বদরের চেতনার প্রতিফলন আমাদের ২৮ অক্টোবর ২০০৬। সেদিন লাশের কফিন সামনে রেখে সত্য মিথ্যার লড়াই হয়েছিল। এক ভাইয়ের প্রতি অন্য ভাইয়ের সহযোগিতা দেখেছি। বদর আমাদের ঈমানের মজবুতি, তাওয়াক্কুল, তাকওয়া, নৈতিকতা, আল্লাহর রঙে রঙিন হওয়ার শিক্ষা দেয়। এ শিক্ষাজীবনে সর্বক্ষেত্রে প্রতিফলিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. রেজাউল করিম বলেন, বদর আমাদের চেতনা, সাহসের মিনার ও উন্নত শিরে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। বদর ইতিহাসের সেই বাঁক যেখান থেকে মুসলমানদের বিজয় শুরু। বদর ইতিহাসের এক অসম যুদ্ধের নাম। সেদিন অল্প সংখ্যক মুসলমান আল্লাহর উপর ভরসা, সাহসিকতা, সততা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য, পরামর্শ ভিত্তিক কাজ ও সর্বপরি আল্লাহর সাহায্যেরর মাধ্যমে বিজয় লাভ করেছিলেন। আমরা যদি এই গুণাবলীসমূহ অর্জন করতে পারি, শত বাধাঁ মোকাবেলা করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বলেন, বদর ছিল মুশরিকদের সাথে প্রথম যুদ্ধ। তারা চেয়েছিল ইসলামকে একেবারে নিঃশেষ করে দিতে। কিন্তু ঈমানী দৃঢ়তার কাছে বাতিল হেরেছে এবং সফলতা দিয়ে উম্মতে মোহাম্মদির যাত্রা শুরু হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তি ও মুসলিম তরুণদের বলতে চাই, বাস্তবমুখী একটি আন্দোলনের নাম হচ্ছে জিহাদ। ইসলামী নেতৃত্বের প্রতি আহবান রাখেন, মতনৈক্য নিয়ে বসে থাকার আর সময় নেই। ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখনি।










