বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতির এই কঠিন ক্রান্তিকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। সারা বাংলাদেশের মানুষের হক্ব আমার উপরে আছে কিন্তু আপনাদের এলাকার মানুষ হওয়ার কারণে আপনাদের হক্ব আমার উপরে আরেকটু বেশি। এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমরা লক্ষ্য করেছি, মায়ের বুক থেকে শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। আমরা যখন সে মায়ের কাছে গিয়েছি, ছেলে হারা মায়ের কষ্ট আমরা দেখেছি। এই ছেলের উসিলায় মহান আল্লাহ যেন আমাদেরকে ক্ষমা করে দেন।
তিনি মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে খাদ্য ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণকালে এসব কথা বলেন।
ডাঃ শফিকু বলেন, বন্যার এই তান্ডব এক সপ্তাহের উপরে চলেছে। কারো ঘরের ছাউনির উপর দিয়ে পানি গড়িয়েছে, কারো ঘরে হাঁটুপানি, আবার কারো ঘরে কোমর পানি। এ এক ভয়াবহ দৃশ্য। এ সময় মানুষ প্রাণপনে খুঁজেছে একটু নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার জন্য। মানুষ নৌকার খুজে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলো। দৃশ্যটি এরকম ছিল যে, সারা সুনামগঞ্জ একটি সাগর আর গ্রামগুলো তার উপরে একেকটি কচুরিপানা। কেউ কাঁদছে তার সঙ্গী হারিয়ে, কেউ বাবা হারিয়ে, কেউ মা হারিয়ে, কেউ বোন হারিয়ে, দাদা হারিয়ে ভাই হারিয়ে স্বামীকে হারিয়ে। নিজের আপনজন কি করে বাঁচবে এই চিন্তায় অস্থির। তাদের মুখের দিকে তাকানো যায় না।
জামায়াতের আমীর বলেন, এখানে কাউকে গরীব-মিসকিন ভাবার সুযোগ নেই। আপনারা আমাদের ভাই-বোন। কে কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, কোন জাতের, এটা কোন বিষয় না, সবাই এখানে বিপদগ্রস্ত বন্যাদুর্গত মানুষ। বিপদ শুধু মুসলমানদের জন্য এখানে আসেনি সবার জন্যই এসেছে। বিপদ আসার পরে যারা মানুষের মধ্যে তারতম্য করে, ভাগবাটোয়ারা করে বিভেদ সৃষ্টি করে, এরা মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। এদের আচরণ চতুষ্পদ জন্তুর মত। এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের সরকারের উচিত ছিলো, সবকিছু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার। কিন্তু আমরা সেরকম কোন তৎপরতা লক্ষ্য করি নাই। আমরা বিপদগ্রস্ত মানুষের সাথে তখন তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারিনি, কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিলো যোগাযোগ করার। কিছু সময় পরে হলেও আমরা বিভিন্ন উপায়ে মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছি। কারণ আমাদের কাছে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করার মতো হেলিকপ্টার ছিল না, স্পীডবোট ছিলো না। কিন্তু জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কারো কারো হাতে সেসব উন্নত যোগাযোগ মাধ্যম ছিলো, কিন্তু তারা সেভাবে যোগাযোগ করেননি।
ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ক্যাবিনেট আছে, সেখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় আছে, দায়িত্বরত একজন মন্ত্রী আছেন, তিনি কেন এই দুর্দশাগ্রস্ত বিপদগ্রস্ত বন্যা দুর্গত মানুষদের খোঁজ-খবর নিলেন না, সেখানে পরিদর্শন করলেন না, মানুষের পাশে দাঁড়ালেন না? আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মানুষ নিরাপদে থাকবে, সন্ত্রাসীদের ভয়ে ছেলে-মেয়েরা ভীতসন্ত্রস্থ হবে না। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে শক্তি দিন, আমরা যেন এমন একটি দেশ গড়তে পারি। আমরা মহান আল্লাহর কাছে বলি আপনি আমাদেরকে ব্যর্থ করবেন না।










