জবাবদিহি চাওয়া শিক্ষার্থীদের ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তার মতে, দেশটির বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাবই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণ।
সোনিয়া গান্ধী বলেন, মোদি সরকার আলোচনার বদলে বারবার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়। কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনকারী—সব ক্ষেত্রেই একই চিত্র দেখা গেছে।
তিনি বলেন, তবে এখন সরকার আরও এক ধাপ নিচে নেমেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও দেশ গড়ার কারিগরদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর বদলে তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। এই আচরণ ক্ষমার অযোগ্য, আর মানুষও এটি ভুলবে না।
কংগ্রেসের এই নেত্রী আরও বলেন, বর্তমান ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাবই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণ। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক। কারণ, তারা একটি অনিশ্চিত ও হতাশাজনক শিক্ষাব্যবস্থার মুখোমুখি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও দাবি শোনার পরিবর্তে সরকার দমনমূলক আচরণ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বার্তায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শুক্রবার আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
চলমান বিক্ষোভ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে এটি ছিল মোদির দ্বিতীয় বক্তব্য। এর আগে দেওয়া এক বার্তায় তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন।
গভীর রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, আমি জানি, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তাই গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি জানান, দোষীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সেটিও সরকারের অন্যতম বড় দায়িত্ব ছিল। এ কারণে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু










