spot_img

উত্তম চরিত্র ও মেধার সমন্বয়ে কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতি সৎ, যোগ্য ও আদর্শিক নেতৃত্বের অভাব গভীরভাবে অনুভব করছে। এ নেতৃত্বের শুন্যতা পূরণে ছাত্রশিবিরকে উত্তম চরিত্র ও মেধার সমন্বয়ে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

সোমবার (২৯ আগস্ট)রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত সাথী সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির আল্লাহর পক্ষ থেকে জাতির জন্য একটি নেয়ামত। এ সংগঠন আল্লাহর মাগফিরাত আর জান্নাতের দিকে ডাক দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রশিবির রক্ত আর ত্যাগের ইতিহাসকে সাথে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। চলার পথে কাফেলার অনেক সাথী রক্তমাখা পোষাকে মহান প্রভুর দরবারে হাজির হয়েছে। শহীদদের ও তাদের স্বজনদের অনেক স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু শহীদেরা সকল স্বপ্ন আল্লাহর জন্য কুরবানী করে দিয়েছে। তারা আমাদের প্রেরণার মিনার। শহীদদের রেখে যাওয়া আমানতের হেফাজতকারী ব্যক্তিগতভাবে আমরা সবাই আর সমষ্টিগতভাবে সংগঠন। এ সংগঠন চলার বাঁকে বাঁকে বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছে। এখনো প্রতিবন্ধকতা আছে। কিন্তু আমাদের বিশ্রামের সুযোগ নেই। দাওয়াত অব্যাহত রাখতে হবে এবং সংগঠন বিস্তৃতির কাজে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।

তিনি বলেন, সময়ের আবর্তনে আমাদের মধ্যে নিত্য নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো মূল্যবান কাজে না লাগিয়ে অযথা নষ্ট করে দেন। ফলে অনেকের আমলে ঘাটতি হচ্ছে। মহান আল্লাহ তায়ালা যৌবনকালের হিসেব কঠিনভাবে আদায় করবেন। এ সময়টা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় সমাজ পরিবর্তনের মূল নিয়ামক ছিলেন যুবকরা। যারা দুনিয়াতে আল্লাহর বিধান কায়েম ও আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করতেন। এ জন্য তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছেন। ময়দানের যোদ্ধা ছিলেন আর শেষ রাতে মহান রবের ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। আমরা তাদেরই উত্তরসূরী। একটি জাতিকে নেতৃত্ব দিতে হলে মেধাবী নেতৃত্বের প্রয়োজন। এজন্য উত্তম চরিত্র ও মেধার সমন্বয় করতে হবে। মসজিদগুলোকে ক্যাম্পাসে পরিণত করতে হবে। বেনামাজিকে নামাজি বানাতে হবে। পুরো সমাজে ইসলামের আবাদ করতে হবে। এভাবেই আমরা পুরো বাংলাদেশে কুরআনের গোলাপ ফুটাবো ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বব্যাপী খিলাফত কায়েমের দায়িত্ব আমরা পালন করছি। যে দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা আমাদের দিয়েছেন। শুরুতে কয়েকটি পা দিয়ে যে কাফেলা যাত্রা শুরু করেছিল সে কাফেলা আজ মেধাবীদের এক বিশাল মিছিলে পরিণত হয়েছে। শহীদ সাব্বির, শহীদ হামিদের মিছিল আজ ২৩৪ জন শহীদের মিছিলে পরিণত হয়েছে। ৬ জন ভাইয়ের গুম ও অসংখ্য ভাইয়ের আহত, পঙ্গুত্ব আমাদের জন্য প্রেরণা। এ প্রেরণা নিয়েই আমরা কাজ করে চলেছি। ইসলামী আন্দোলন মানেই আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সর্বাত্বক প্রচেষ্টার নাম। সন্তুষ্টচিত্তে এ প্রচেষ্টায় আমাদের অটল থাকতে হবে। ছাত্রশিবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামদের পদাঙ্ক অনুস্বরণ করে এগিয়ে চলেছে। আমরা সচেতনতার সাথে আমাদের পথ, লক্ষ্য ও সফলতার প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্বের শুন্যতা পূরণে ইসলামের যথার্য জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা অর্জন, দূরদর্শী হওয়া ও নিজেকে সত্যের সাক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের ছাত্রসমাজ নানাভাবে অমানিশার অন্ধকারের দিকে ছুটছে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ছাত্রসমাজকে রক্ষার একমাত্র পথ তাদের কাছে ইসলামের আদর্শের আলোকবর্তিকা নিয়ে হাজির হওয়া। ইসলামী আদর্শই হচ্ছে ছাত্রশিবিরের আদর্শ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা ইসলামকে মেনে চলতে পারছি কি না তা সচেতনতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে। প্রত্যেক ছাত্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। কোনো অহেতুক বিচরণ নয় বরং সোশ্যাল মিডিয়াকে ইসলামের জন্য ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের সকল কর্মকান্ডের মূল ভিত্তি হতে হবে আল কুরআন আর মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্যে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

আয়োজিত সাথী সম্মেলন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল রাজিবুর রহমানের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মতিউর রহমান আকন্দ, নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, দেলাওয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত ও সালাহউদ্দিন আইউবী প্রমুখ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ