সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। এ সময় অনেকে কাপনের কাপড় গায়ে বেঁধে আহাজারী করতে থাকেন। মানববন্ধনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই প্রধান বনজ কুমারের বিচার বিভাগীয় শাস্তির দাবি করেন আন্দোলনকরীরা।
শনিবার (৮ অক্টোবর) সকালে সোনাগাজী পৌর শহরের জিরো পয়েন্টে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
তাদের দাবি, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্দোষ ১৬ জন মানুষকে বনজ কুমার মিডিয়া ড্রায়ালের মাধ্যমে মিথ্যা কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আসামি করেন। আত্মহত্যাকে হত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। উক্ত মামলার বিচার বিভাগীয় পূর্ণ তদন্ত দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
মানবন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কমিশনার নুরনবী লিটন।
তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন ও সাবেক কমিশনার মাকসুদ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। তারা মডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে সোনাগাজী দুর্নীতিবাজ পৌর মেয়র খোকনের ষড়যন্ত্রে শিকার। তিনি নির্বাচনের আগে তার পথের কাঁটা সরানোর জন্য টাকা খরচ করে তার বিরোধী নিরপরাধ লোকদের ফাঁসিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন লিটন।
সোনাগাজী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন গনি মামলার বিচার বিভাগীয় পূর্ণ তদন্তের দাবি করে । তিনি বলেন, এ মামলায় মিথ্যা, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ১৬ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব বাবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামছুল আরেফিন, সোনাগাজী ৭ নম্বর ওয়ার্ড পৌর কমিশনার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জামাল উদ্দিন নয়ন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড পৌর কমিশনার ও যুবলীগ নেতা বেলাল হোসেন।
এর আগে ২৪ আক্টোবর ২০১৯ সালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্রুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালত চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে আদেশ দেন। প্রত্যক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। মাত্র সাড়ে ছয় মাসের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।











