পণ্য রপ্তানিতে নতুন ইতিহাস গড়লো তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকার। বিদেশে রপ্তানির পরিমাণ ২২ শতাংশে উন্নীত করে আফগানিস্তানের অতীত রপ্তানির রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে তারা।
গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে আফগান শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাওলানা কুদরতুল্লাহ জামাল বলেন, বিগত অর্থ বছরগুলোর তুলনায় সর্বশেষ অর্থ বছরে (২০২২) আমাদের ভালো উন্নতি হয়েছে। বিদেশে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ১৩ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে যা আগের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি।
তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা ২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ পণ্য বিদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছি যা বিগত সকল অর্থ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় ও ঐতিহাসিক সাফল্য।
সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণ আরো বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজধানী কাবুল সহ আরো ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক্সপোর্ট প্রসেসিং সেন্টার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সাথে কাবুলে এক্সপোর্ট প্রসেসিং সেন্টার খোলার জন্য অর্থও বরাদ্দ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অতীতের তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধি অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য ভালো লক্ষণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।একই সাথে এটি কৃষক ও অন্যান্য খাতের কর্মজীবীদেরও নিজ নিজ কাজে আরো উৎসাহী করে তুলতে সহায়তা করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে জবাবে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল সালাম জাওয়াদ সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর আমরা বাস্তবমুখী সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম। প্রতিবেশী ও দূরের রাষ্ট্রগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। তাই রপ্তানির পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি আমরা।
কী কী পণ্য কোন কোন দেশে রপ্তানি করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তারা জানান, কয়লা, ঔষধি গাছ, তুলা, আঙুর, ডালিম, কিসমিস, শুকনো ডুমুর, বাদাম, পাইন বাদাম, এপ্রিকটসহ আরো বিভিন্ন ধরণের জিনিস পাকিস্তান, ভারত, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইরাক, তুরস্ক ও কাজাখস্তানে রপ্তানি করে থাকে আফগানিস্তান।
চলতি অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ৩ বিলিয়নে উন্নীত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে এই কর্মকর্তা আমদানির তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধির একটি কর্মকৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও জানান, যা সময়ের সাথে সাথে আরো উন্নত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
আমদানির বিষয়ে বলা হয়, প্রায় ৭ বিলিয়ন (৬ বিলিয়ন ৭০৬ মিলিয়ন) ডলার সমপরিমাণ পণ্য বাইরের দেশগুলো থেকে আমদানি করেছে আফগানিস্তান। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে ইরান, চীন, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, তুর্কেমেনিস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, রাশিয়া ও ভারত থেকে। আমদানি পণ্যগুলোর মধ্যে কাপড়, পেট্রোল, গ্যাস, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও গম অন্যতম।
এছাড়াও শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন ‘কুশতিপা খাল’ প্রজেক্ট সম্পন্ন হলে কৃষকেরা পর্যাপ্ত পরিমাণে গম উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন। বহুগুণে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাইরের দেশ থেকে গম আমদানির প্রয়োজনও দূর হয়ে যাবে। বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে গম রপ্তানির সক্ষমতাও অর্জিত হবে।
এতে করে আমদানির তুলনায় রপ্তানির হার বৃদ্ধি পাবে যা দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল ইমারাহ











