পবিত্র আকসায় নিরীহ মুসল্লীদের উপর ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের জবাবে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিন ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) লেবানন থেকে ৩৪ টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল।
অবৈধ রাষ্ট্রটির সন্ত্রাসী সেনারা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে লেবনান থেকে ইসরাইল অভিমুখে হামাসের ১টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা বলে যা তারা ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে দাবী করে।
তবে ইসরাইলী সেনাদের সামরিক রেডিও স্টেশনের ভাষ্যমতে, দুই দফায় মোট ৩৪ টির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তন্মধ্যে ১৫টি হামলা হয়েছিলো দখলকৃত ফিলিস্তিনের জালিল (গ্যালিলি) অঞ্চলকে লক্ষ্য করে যা ব্যর্থ করে দেয় ইহুদিবাদী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১টি রকেট জালিল অঞ্চলে ইসরাইলী প্রেসিডেন্টের বাস ভবনে গিয়ে পড়ে বলেও দাবী করা হয় ইসরাইলী সেনাদের রেডিও বার্তায়।
বলা হয়, রেকর্ডকৃত ৩৪টি হামলার মধ্যে ২৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আসার আগেই ধ্বংস করে দিতে সফল হয়েছে ইসরাইল। আর ৫টি তাদের ভূখণ্ডে বা দখলকৃত ফিলিস্তিনে আঘাত হানে, যার ১টি এসে পড়ে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে। প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে এতে আগুন লেগে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
জানা যায়, বাকি ৪টি রকেট লেবাননেই বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
এদিকে লেবাননে ইসরাইলী হামলার যে খবর ছড়িয়ে পড়েছিলো তা পরিপূর্ণ সত্য নয় বলে জানান লেবাননের আল জাজিরা কার্যালয়ের পরিচালক মাজেন ইবরাহীম।
লেবানন নিরাপত্তা অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে মাজেন ইবরাহীম বলেন, ইসরাইলী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা হামলার ফলে কয়েকটি রকেটের ধ্বংসাবশেষ লেবাননে এসে পড়ে আর কয়েকটি রকেট লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে পৌঁছার আগেই লেবাননের সীমানায় বিধ্বস্ত হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় মনে করা হয় যে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়েছে এবং স্থানীয় মিডিয়াগুলোও তৎক্ষনাৎ তা ফলাও করে প্রচার করে।
হামলাটি লেবানন থেকে পরিচালিত হওয়ায় সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ চালিয়েছে বলে মনে করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এর দায়ভার স্বীকার করেনি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ৩টি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে তাদের খবরে দাবী করেছে যে, হিজবুল্লাহ নয় বরং ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলনের ছোট ছোট শাখাগুলো আকসায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের নৃশংস হামলার জেরে লেবানন থেকে এই হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলের তথ্যমতে, ৫টি রকেট ভূখণ্ডে আঘাত হানায় অনেক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে অবৈধ রাষ্ট্রটি এবং অল্পসংখ্যক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
সূত্র: আল জাজিরা











