ইসলামের পাশাপাশি খ্রিস্টধর্মের পবিত্র স্থানগুলোও এখন ইহুদিবাদী এজেন্ডার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিন ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সিনিয়র নেতা হিশাম কাসেম।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) মসজিদে আকসায় নামাজরত মুসল্লিদের উপর হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের ব্যাপারে সতর্ক করেন তিনি।
হিশাম কাসেম বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে ইহুদিবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে ইসলামের পাশাপাশি এখন খ্রিস্টধর্মের পবিত্র স্থানগুলোকেও নিজেদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে দখলদার ইসরাইল। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্রটির সাথে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন ও চুক্তি ভঙ্গ করতে আহবান জানাচ্ছি। বিশেষ করে যেসব লজ্জাজনক চুক্তি আমাদের (ফিলিস্তিনি) জনগণের পায়ে শিকল পড়ানোর পথ আরও উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
এছাড়া সিনিয়র হামাস নেতা আকসায় নামাজরত ফিলিস্তিনিরা প্রকৃতপক্ষে ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্রটির সাথে আরব দেশগুলোর গণহারে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির খেসারত দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এবং আরব দেশগুলোর উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে হিশাম কাসেম বলেন, শুধুমাত্র কয়েকটি নিন্দাসূচক বিবৃতি দিয়ে ধর্মযুদ্ধের ইতি ঘটানো যায় না।
এসময় তিনি আরব-অনারব মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান গ্রহণের আহবান জানান।
উল্লেখ্য; বুধবার (৫ এপ্রিল) ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সন্ত্রাসী সেনারা আকসা প্রাঙ্গণে নামাজরত ফিলিস্তিনিদের উপর ভয়াবহ তাণ্ডব চালানো শুরু করলে অনেক ফিলিস্তিনি প্রাচীন আকসার একটি মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ করে।
প্রাচীন আকসার ধর্মীয় মর্যাদা থাকায় ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে যেকোনো ধরণের অভিযান পরিচালনা ও সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশ না করার আন্তর্জাতিক রীতি রয়েছে বলে জানা যায়।
কিন্তু পবিত্রতা, ধর্মীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক রীতি কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করেই অবৈধ রাষ্ট্রটির ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী বাহিনীরা আকসা প্রাঙ্গণ ও প্রাচীন আকসার ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে তাণ্ডব চালায়। তাণ্ডবে বিভিন্ন ধরণের গ্রেনেড ব্যবহার করে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী বাহিনীরা। ইহুদিবাদী তাণ্ডবে শতাধিক হতাহত ও ৪শত জনকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স, সৌদি, কাতার, আরব আমিরাত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান সহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করে এবং তীব্র নিন্দা জানায়।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











