ট্রায়াল পরিস্থিতির বাইরে পৃথিবীর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ফাইজার/বায়োটেক কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন ব্রিটেনের ৯০ বছর বয়সী এক নারী। এর মাধ্যমেই শুরু হলো যুক্তরাজ্যের গণ টিকাদান কর্মসূচি।
মঙ্গলবার সকালে সেন্ট্রাল ইংল্যান্ডের কনভেন্ট্রি শহরের স্থানীয় এক হাসপাতালে মার্গারেট কিন্যান নামে ওই নারী ভ্যাকসিন গ্রহণের পর নিজেকে সৌভাগ্যবতী বলে অভিহিত করেছেন।
পাশ্চাত্যের প্রথম দেশ হিসেবে মঙ্গলবার ফাইজার ও বায়োটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সাধারণ পর্যায়ে প্রয়োগ শুরু করেছে ব্রিটেন।
বৈশ্বিক অর্থনীতিকে পর্যুদস্ত করে দেওয়া এবং ১৫ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আশার আলো দেখাচ্ছে এ ঘটনা।
‘কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন নেওয়া প্রথম ব্যক্তি হতে পেরে নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবতী মনে করছি,’ বলেন এক সপ্তাহ পরই ৯১ বছর বয়সে পা রাখতে যাওয়া কিন্যান।
‘জন্মদিন সামনে রেখে এর চেয়ে ভালো পুরস্কার আর হতে পারে না! কেননা, এর ফলে সারাটা বছর নিজেকে গুটিয়ে রাখতে বাধ্য হওয়ার পর আসন্ন নববর্ষে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারব আমি,’ বলেন তিনি।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নার্স মে পারসন্স যখন কিন্যানকে ভ্যাকসিন দিচ্ছিলেন, সে সময়ে তার পরনে ছিল একটি নীলরঙা টি-শার্ট ও কার্ডিগ্যান।
পারসন্স জানান, গত কয়েকটি মাস সবার জন্যই বেশ কঠিন কেটেছে, তবে এখন সুড়ঙ্গের সীমানায় আলোর দেখা পাওয়ার অনুভূতি হচ্ছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯-এর সবচেয়ে ভয়ংকর হানার শিকার হয়েছে ব্রিটেন। দেশটিতে এ ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আগেই ফাইজার/বায়োটেক ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করতে পেরে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বেশ আশাবাদী।
কে এই মার্গারেট কিন্যান?
মার্গারেট কিন্যান মূলত উত্তর আয়ারল্যান্ডের এনিস্কিলেন শহরের মানুষ; তবে সেন্ট্রাল ইংল্যান্ডের কনভেন্ট্রি শহরেই বসবাস তার।
৯০ বছর বয়সী এই নারী পরিবার ও বন্ধুমহলে ম্যাগি নামে পরিচিত।
অলংকার দোকানের সাবেক এই কর্মী আগামী সপ্তাহে ৯১ বছর বয়সে পা রাখবেন। চাকরি থেকে তিনি অবসর নিয়েছেন ৪ বছর আগে।
তিনি এক কন্যা ও এক পুত্রের জননী। চারজন নাতি-নাতনি রয়েছে তার।
সূত্র: টিবিএস












