spot_img

মাওলানা মামুনুল হকের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে যুব মজলিসের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকসহ কারাবন্দী সকল মজলুম আলেমের মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (৯ জুন) শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস। এসময় বিভিন্ন জেলায় মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। খুলনায় মিছিলে অতর্কিতভাবে লাঠিচার্জের পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ মাহমুদসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তাদের মুক্তির দাবী জানিয়েছেন।

মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজ দেশে এক চরম অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুর্নীতিবাজ সরকার দেশের সর্বনাশ করে ছেড়েছে। লুটেপুটে খেয়ে দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমউর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণগ্রেফতার ও বিরোধী মতের উপর দমন-পীড়নের স্টিমরোলার চালিয়ে আইন আদালতকে আস্থাহীন বানিয়ে দিয়েছে। সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে পুলিশ প্রশাসনকে নির্লজ্জ দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরেকদিকে দেশের আপামর জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকসহ দেশবরেণ্য আলেমদের অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করে রেখেছে। স্বজনদের সাথে সাক্ষাত ও জামিন না দিয়ে সরকার চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেই চলছে।

বক্তারা দাবি করেন, এ সরকার অবৈধভাবে জোরপূর্বক ক্ষমতায় এসেছে এবং দেশ পরিচালনায় ভয়াবহ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ব্যর্থ সরকারের অনেকেই শতভাগ উন্নয়নের গালগল্প শুনিয়ে আবার ক্ষমতায় আসার দিবাস্বপ্ন দেখছে। অচিরেই তাদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে বক্তারা অনতিবিলম্বে মাওলানা মামুনুল হকসহ কারাবন্দি আলেমদের নিঃশর্ত মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ ও দ্রুত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির দাবি করেন। একই সাথে বক্তারা বর্তমান দুর্নীতিবাজ স্বৈরাচারী সরকারকে রুখে দিতে ও কারাবন্দি আলেমদের মুক্তি আন্দোলন বেগবান করতে জনসাধারণকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বাদ জুমা জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা মহানগরীর প্রোগ্রাম হ‌ওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের কঠোর অবস্থান ও গণগ্রেফতারের হুমকি উপেক্ষা করে পল্টনে তৎক্ষণাৎ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা রাকীবুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহ সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান ও বাইতুল মাল সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি, কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদের সদস্য মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী বলেন, মিছিল মিটিং প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার। আমাদের দীর্ঘদিন যাবত এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আবেদন করার পরও গতকাল প্রশাসন সকল আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলেছে, ‘মাঠে নামলে গণগ্রেফতার করা হবে।’ কারণ জিজ্ঞেস করলে বলল, “মামুনুল হকের মুক্তির দাবিতে কোনো সভা সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।” এই বেআইনি বক্তব্যের জন্য আমরা ঐ পুলিশ অফিসারের বিচার চাই। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মাদ খালিদ সাইফুল্লাহ।

চট্টগ্রামে বাদ জুমা নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেইট থেকে মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর। চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মাওলানা রিদওয়ানুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে এবং সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আরিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস কেন্দ্রীয় পরিষদের সংগঠন বিভাগের সম্পাদক জনাব মাওলানা ফজলুর রহমান।

মোমেনশাহীর বড় মসজিদে জেলা সভাপতি মাওলানা রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মাওলানা হাবীবুর রহমানের পরিচালনায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

কিশোরগঞ্জে জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ আলীর সভাপতিত্বে ও মাওলানা উসমান গণীর পরিচালনায় শহীদি মসজিদের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নরসিংদীতে জেলা সভাপতি মাওলানা আনোয়ার মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশীদের পরিচালনায় শহরের বাজিরমোড় থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়নগঞ্জ মহানগর সভাপতি মাওলানা মীর আহমাদুল্লাহ এর সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি আল- আমিন রাকিবের সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর ডিআইটি মসজিদের সামনে থেকে বের হয়ে ২নং রেলগেট ঘুরে ডিআইটি মসজিদের সামনে এসে দোয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

গাজীপুরে সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মোর্শেদ কামাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও বায়তুলমাল সম্পাদক আবুবকর সিদ্দীক এর পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

কেরানীগঞ্জে ঢাকা জেলা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা জাকির হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সহ সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নোয়াখালীতে জেলা সভাপতি মাওলানা খালেদ মাহমুদ ও সহ সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ফেনীতে পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ বাদ জুমা বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল গনী ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ইমাম উদ্দিন শাহেদের পরিচালনায় ফেনী শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়কে উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

টাঙ্গাইলে পুরাতন কোর্ট মসজিদ এর সামনে জেলা সহ সভাপতি হাফেজ যায়েদ হাবিবের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু বকর এর পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুর শহরে জেলা সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন নেয়ামতের সভাপতিত্বে ও সহ সভাপতি মাওলানা তারেক হাসানের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরে মুফতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

জামালপুরে মুর্শিদুল আলমের সভাপতিত্বে ও মাওলানা মাসুদুর রহমানের পরিচালনায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বগুড়ায় জেলা সভাপতি মাওলানা মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে প্রশাসন বাধা দিয়ে ব্যানার ও মাইক কেড়ে নিয়ে যায়।

মৌলভীবাজারে মাওলানা শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মাওলানা শাহ মেসবাহের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া সুনামগঞ্জে মাওলানা আব্দুল খালেক ও মানিকগঞ্জে মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহর নেতৃত্বে ও ঢাকা জেলা উত্তরের সাভারে মাওলানা মাহফুয হায়দারের নেতৃত্বে ও দেশের বিভিন্ন জেলায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ